- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শাল্লায় যুদ্ধাপরাধীর ছেলে কর্তৃক একাত্তরের নির্যাতিত পরিবারের শিশু কন্যাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লা উপজেলার দৌলতপুরে যুদ্ধাপরাধীর মামলায় অভিযুক্তের ছেলে মামলার বাদীর নিকটাতœীয় ও একাত্তরের নির্যাতিত পরিবারের সদস্য এক দিনমজুরের তৃতীয় শ্রেণির কন্যাকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ্ ঘটনায় নির্যাতিতের পরিবার থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করায় তাদেরকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। শ্লীলতাহানীর শিকার ওই দিনমজুরের শিশু কন্যাকে গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে নিয়ে আসলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবগত করেছেন। পুলিশ সুপার ওই শিশু কন্যার পরিবারকে শাল্লা থানায় গিয়ে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে গত রবিবার দৌলতপুর গ্রামের জনৈক দিনমজুরের কন্যা উজানগাও গ্রামের একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। ওই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে তার নিকটাতœীয়রা একই গ্রামের হেকিম মোড়লের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীর মামলা করেছেন। এই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। জানা গেছে ১৯৭১ সনে শ্লীলতাহানীর শিকার ওই শিশু ছাত্রীর পরিবারের ৭ জনকে হত্যা করে গ্রামের রাজাকাররা। ওই ছাত্রীর দুই দাদীকেও ধর্ষন করে হত্যা করা হয়। গত রবিবার যুদ্ধাপরাধীর মামলার আসামী হেকিম মোড়লের ছেলে অপু মোড়ল (২২) দিনমজুরের ওই কন্যাকে নদীর ঘাটে একা পেয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তাকে নদীতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ বিষয়টি দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা এগিয়ে এলে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনাটি সাথে সাথেই নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে অবগত করেন। থানার ওসিকেও বিষয়টি জানায় পরিবার। ছাত্রীর বাবা থানায় মামলা করতে এলে ওই পরিবারের চাপে এলাকার মানুষ বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তির কথা বলেন। আপস না মেনে গতকাল মঙ্গলবার নির্যাতিত মেয়েটিকে নিয়ে তার বাবা ও মা সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে এসে বিস্তারিত জানান। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবগত করা হয়। পরে পুলিশ সুপার শাল্লায় থানায় গিয়ে দ্রুত মামলা করার নির্দেশ দেন।
ছাত্রীর বাবাব জানান, মামলা না করার জন্য নানাভাবে আমাকে হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি এই ঘটনায় মামলার মাধ্যমে ওই বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি বলেন, ১৯৭১ সনে আমাদের পরিবারের ৭ জনকে স্থানীয় রাজাকাররা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমার দুই ফুফুকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলা দায়ের করায় আমাদের পরিবারকে হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এখন এই স্বাধীন দেশে প্রকাশ্যে আমার শিশু মেয়ের শ্লীলতাহানীরও চেষ্টা করছে তারা।
শাল্লা থানার ওসি বজলার রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ওই ছাত্রীর পরিবারের কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি। তারা মামলা করতে আসলে আমরা অবশ্যই মামলা নেব।

  • [১]