- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শাল্লায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সোলার প্যানেলের হদিস নেই!

পি সি দাশ, শাল্লা
৫৬৩ পরিবারের নামে সরকারি বরাদ্দে কেনা শাল্লার ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার সোলার প্যানেলের (সৌর বিদ্যুৎ) কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহকদের আজ নয় কাল বলে সময় ক্ষেপণ করে মাসের পর মাস অতিক্রম করছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস।
উপজেলার সকল ইউনিয়নের সোলার প্যানেল পাওয়ার তালিকাভূক্তরা প্রতিদিনই খোঁজ খবর নিচ্ছেন কবে কোন দিন সোলার প্যানেল পাবেন। কিন্তু কেউ সঠিক তথ্য বা তারিখ বলতে পারছেন না ।
জানা যায়. কাবিখা, টিআর বরাদ্দের ৫০ ভাগ অর্থ যা দিয়ে সোলার প্যানেল ক্রয় করার কথা সেই ৫০ ভাগ অর্থের সর্বমোট ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার  সোলার প্যানেল মূলত এখনও কেনাই হয় নি। এলাকার সচেতন মহলের অনেকেই বলছেন পিআইও অফিসের অবহেলার কারণেই এলাকার এত বড় ক্ষতি হল।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসের সহকারী প্রকৌশলী প্রীতি   
 ভূষণ দাস বলেন,‘ টিএমএসএস নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সরকারী কাবিখা, টিআর বরাদ্দের ৫০ ভাগ অর্থ দিয়ে সোলার প্যানেলের মালামাল ৩০ জুনের মধ্যে সরবরাহ করার কথা। এজন্য গত ৪ এপ্রিল পিআইও অফিস থেকে ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৮০ টাকার একটি বিলও দেওয়া হয়েছে টিএমএসএস প্রতিষ্ঠানকে। বিল দেওয়ার কয়েক দিন পর ওই প্রতিষ্ঠান নামে মাত্র কয়েকটি ব্যাটারী পাঠিয়েছে বলে তিনি জানান ।
উপজেলায় মোট ৫৬৩ টি পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সোলার প্যানেল বিতরণ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় একটি তালিকাও প্রণয়ন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পিআইও অফিস।
এনিয়ে বাহাড়া ইউপি সচিব বিপ্লব  দাস বলেন,‘ তালিকা আমরা দিলে কি হবে, পিআইও অফিসে তালিকা যাওয়ার পর আমাদের তালিকা সঠিক থাকে না। পিআইও অফিস কখন কি করে আমরা জানি না। তিনি বলেন সোলার প্যানেলের জন্য প্রতি দিনই কেউ না কেউ আসে আমাদের কাছে। কিন্তু সঠিক করে তাদেরকে কিছুই বলতে পারি না ।
শাল্লা ইউপি চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী বলেন,‘ সোলার প্যানেল কয়টি দিয়েছি তা আমার মনে নেই। তবে সচিব সবকিছু বলতে পারবেন। তিনি  আরো বলেন,‘ মনে রেখে কি হবে, জুন মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে এখনও  সোলার প্যানলের কোন খবর নাই। মানুষজন প্রতিদিনই সোলারের খবর নিচ্ছেন। জুন মাস শেষ, এখনও সোলার না আসলে এলাকার হতদরিদ্র  পরিবারগুলো  বড় রকম ক্ষতির সন্মুখিন হবে বলে জানান তিনি।    
উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক আবুল লেইছ চৌধুরী বলেন,‘ সোলার প্যানেল প্রকল্প নিয়ে পিআইও আব্দুল হাই খান ও সহকারী প্রকৌশলী প্রীতি ভূষণ দাস টিএমএসএস প্রতিষ্ঠানের যোগসাজসে বড় রকমের দুর্নীতি করছেন। আর একারণেই এলাকার দরিদ্র পরিবারের বড় অংকের অর্থ চলে যাচ্ছে। উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। সময় মত সোলার না আসার জন্য তিনি পিআইও আব্দুল হাই খানকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন তার অনিহার কারণেই আজ এঅবস্থা।
নাম প্রকাশে অনেছুক একজন জনপ্রতিনিধি বলেন,‘ পিআইও আব্দুল হাই খান ও সহকারী প্রকৌশলী প্রীতি ভূষণ টিএমএসএস এর নিকট মোটা অংকের বকশিশ দাবি করেছে বলে শুনেছি। হয়ত একারণেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালামাল সরবরাহ করতে অনিহা প্রকাশ করছে।’
এবিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী প্রীতি ভূষণ দাস বলেন,‘ আমরা বার বার টিএমএসএস প্রতিষ্ঠানকে মৌখিক তাগিদ দিয়েছি। কিন্ত তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে যাচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে ঘুষ নেওয়া বা চাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’  
তিনি আরো বলেন,‘ বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত নোটিশ আমরা টিএমএসএস নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট পাঠিয়েছি।’      
এনিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টিএমএসএস-এর এরিয়া ম্যানেজার নারায়ন চন্দ্র পোদ্দার সোলার প্যানেলের মালামাল সংগ্রহে বিভিন্œ সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন,‘ আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে সব মালামাল শাল্লায় পৌঁছে যাবে।’

  • [১]