পি সি দাশ, শাল্লা
শাল্লায় ৪০ দিনের কর্মসূচিতে অভিযোগের অন্ত নেই । ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (১ম পর্যায়ের ) ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, উপজেলার ৪ ইউনিয়নে ২০ টি প্রকল্পে ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। প্রকল্পের কাজে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনকে শ্রমিক দেখিয়ে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক শাখায় হিসাব খোলেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ও পিআইসি সভাপতিগণ ।
বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই ব্যাংক হিসাব নম্বরের প্রকৃত শ্রমিক নয়। ব্যাংক তালিকায় দেখা যায় প্রায় ৭০ ভাগ নামধারী শ্রমিক পিআইসি সভাপতিগণের ধনী আত্মীয় স্বজনের নাম। আবার কয়েকটি প্রকল্পে এখন পর্যন্ত কাজই শুরু হয়নি। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি হিসাবে ৪০ দিন কাজ করার জন্য এই প্রকল্প। কিন্তু শাল্লায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের কাজ
কিছুই হচ্ছে না। বরং গরিব অসহায় শ্রমিকের প্রাপ্য অর্থ কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি নিকট আত্মীয়-স্বজনের নামে ব্যাংকে হিসাব খোলেছেন। আর যে সব প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে সেই সব প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের নামের সাথে ব্যাংক হিসাব তালিকার মিল নেই ।
যেখানে শ্রমিকরা ৪০ দিন কাজ করার কথা সেখানে ফুট হিসাবে মাটি কাটছে শ্রমিকরা। তাই প্রকৃত পক্ষে যারা এই প্রকল্পের কাজে শ্রমিক নিয়োজিত হবার কথা তারা বঞ্চিত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি প্রকল্পে দেখা যায়, কাজের জন্য যে পরিমাণ শ্রমিকের থাকার কথা সেখানে তার চেয়ে অনেক কম শ্রমিক রয়েছে। আর যে সব শ্রমিক প্রকল্পে কাজ করছে তারা ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
সরেজমিনে ৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত শ্রীহাইল গ্রামের হাফিজ মিয়া, নোয়াগাঁও গ্রামের দিলিপ দাস, নিরঞ্জন দাস, দীশক্তি দাস, যাত্রাপুরের শিবুর দাসসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বললে তারা জানান, প্রতি দিনের মজুরি হিসাবে নয়, তারা ফুট হিসাবে মাটি কাটছেন। শ্রমিকরা বলেন,‘ কার নামে ব্যাংকে হিসাব ওইছে তা আমরা জানি না। শুনেছি মেম্বারদের আত্মীয়রার নামে ব্যাংকে একাউন্ট করেছে।’
২০টি প্রকল্পের পিআইসির সভাপতিরা হলেন, আটগাঁও ইউপির চানঁবানু বেগম, ববিতা দাস, কালাম মিয়া, সুধাংশু দাস ও আতাউর রহমান। হবিবপুর ইউপি সদস্য সুতলাল দাস, এলাইছ মিয়া, জ্যোতি রানী দাস, টিপু সুলতান ও সবুজ মিয়া। বাহাড়া ইউপি সদস্য ব্রজলাল দাস, প্রসেনজিৎ দাস, ফাতেমা বেগম, সজল চৌধুরী ও নরেশ অধিকারী। শাল্লা ইউপি সদস্য সাজু মিয়া, মনিরা বেগম, তৈয়বুর রহমান, আরজ আলী ও সানু মিয়া।
ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০টি প্রকল্পের কয়েকজন সভাপতি তাদের স্বজনদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলে অর্থ আত্মসাত করার চেষ্টা চালিয়েছে। আবার অনেকেই বিগত দিনের শ্রমিকের হিসাব দেখিয়ে তাদের কাজ হাসিল করছেন। এসব ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মহিম চন্দ্র দাস এসব ঘটনার কথা শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন,‘ এসবের ঘটনার পেছনে রয়েছে (পিআইও) প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর। আমাদের নেতার (সদ্য প্রয়াত এমপি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের) মৃত্যুর সুযোগে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় এসব দুর্নীতি করার সাহস পাচ্ছে দুর্নীতিবাজরা । তিনি এই সব অনিয়মের তদন্তের দাবি করেন।
এসব বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হাই খানের সাথে কথা বলতে তার ব্যক্তিগত ফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।