স্টাফ রিপোর্টার
শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও বাহারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডুমরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নরেশ চন্দ্র চৌধুরী (৮০), তার বড় ভাই রসরাজ চৌধুরী’র স্ত্রী সুরধনী চৌধুরী (৬০) ও কাকাতো ভাই বিয়াস চৌধুরী’র ছেলে কানু চৌধুরী (৩৫) সন্ত্রাসীদের হামলা শিকার হয়েছেন। সোমবার দুপুরে শাল্লা থানার সামনের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নরেশ চন্দ্র চৌধুরী, তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী সুরধনী চৌধুরী ও কানু চৌধুরীকে ছুরিকাঘাতসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা
হয়েছে। এসময় হামলাকারীরা নরেশ চৌধুরী’র মোটরসাইকেল চালক ডুমরিয়াা গ্রামের মহিতোষ সুত্রধর (৩৮) কেও মারধর করেছে।
হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ তাৎক্ষণিক ডুমরিয়া গ্রামের মৃত যোগেশ চন্দ্র দাসের ছেলে অ্যাড. দিপু রঞ্জন দাস (৩৫), মৃত বড়দা রঞ্জন দাসের ছেলে ব্রজবাশী দাস (৫৫), কৃষ্ণ দাসের ছেলে নৃপেন্দ্র দাস (৩৪), নরেন্দ্র দাসের ছেলে নিকুঞ্জ দাস (৩৫), মধুসুধন দাসের ছেলে সমীরন দাস (৩০) কে আটক করেছে। পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন নরেশ চন্দ্র চৌধুরীর পরিবার ও শাল্লা থানার পুলিশ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরেশ চন্দ্র চৌধুরী ও তার কাকাতো ভাই কানু সরকার সোমবার দুপুরে দিরাই থেকে মোটরসাইকেল যোগে ডুমরার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় শাল্লা থানার সামনে পৌঁছলে ডুমরা গ্রামের প্রতিপক্ষ তরুণ কান্তি দাসের ছেলে তুষার দাস, হেমবাশি দাস, তার ছেলে তাপস দাস, তপন দাস, প্রানতোষ দাস, ব্রজবাশি দাসের ছেলে বিজয় দাস, বিপুল দাস, হাবুল দাসসহ আরো কয়েকজন প্রথমে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। মোটরসাইকেল চালককে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দিয়ে নরেশ চন্দ্র চৌধুরী ও কানু দাসের উপর ধারালো ছুরি, লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। ছুরিকাঘাতে নরেশ চন্দ্র চৌধুরী ও কানু দাস গুরতর আহত হন। এসময় নরেশ চৌধুরীর বড় ভাই রসরাজ চৌধুরীর স্ত্রী সুরধনী চৌধুরী এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে হামলাকারীরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নরেশ চৌধুরীর হাতের রগ কেটে গেছে। স্থানীয়রা আহত মোটরসাইকেল চালক মহিতোষ সূত্রধরকে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নরেশ চন্দ্র চৌধুরী, সুরধনী চৌধুরী ও কানু দাসকে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত নরেশ চন্দ্র চৌধুরীর ছেলে বিশ্বজিত চৌধুরী নান্টু বলেন,‘দিপু রঞ্জন দাসের নেতৃত্বে তার সহযোগি সন্ত্রাসীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে খুন করার উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্য ছিল আমার বাবাকে খুন করা।’
শাল্লা থানার ওসি বজলার রহমান জানান, গ্রামের পূর্ব বিরোধের জের উপজেলা সদরের বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েদের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে বিকালে নরেশ চন্দ্র চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ও জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মিছিল শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন চৌধুরী, উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক কাজল চৌধুরী, যুবলীগ নেতা অজয় তালুকদার, অরিন্দম চৌধুরী অপু, অরূপ তালুকদার, ফনী ভুষণ সরকার, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক পলাশ চৌধুরী, শাল্লা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি স্বাগতম চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন, আলল মিয়া, উপজেলা মোটরসাইকেল চালক সমিতির সভাপতি রতন চৌধুরী প্রমুখ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচির আহবান করা হয়েছে।