সুব্রত দাশ খোকন, শাল্লা
শাল্লা উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার তিনটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন দুইজন, এরমধ্যে আবার একজনকে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
উচ্চমান সহকারি, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও এমএলএসএসসহ অফিস স্টাফের তিনটি পদ বিগত প্রায় ১২ বছর যাবৎ শূন্য। হিসাব সহকারি হিসেবে কর্মরত একমাত্র অফিস স্টাফকে একাই চারজনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। লোকবল সংকটে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, বিভিন্ন বিষয়ে তদারকি ও শিক্ষকদের অফিস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে না।
শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১০৭টি। তিনটি ক্লাষ্টারে বিভক্ত এসব বিদ্যালয়গুলোতে
তদারকির দায়িত্ব পালন করার কথা তিনজন সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার। তবে এখন মাত্র একজন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা তদারকি করেন, অন্যজনকে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে হয়। একজনের পক্ষে প্রতিদিন ১০টি বিদ্যালয়ের তদারকি করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়গুলোতে।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনোজ কান্তি সরকার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ’
রসিকলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লোকেশ চন্দ্র দাস বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করলে বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান আরও ভাল হত।’
শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারি রুপেন চন্দ্র দাস বলেন, ‘অফিস স্টাফের পদ আছে চারটি অথচ কর্মরত একমাত্র আমি। আমাকে চারজনের কাজ একা করতে গিয়ে প্রায়ই কাজ-কর্মে বিঘœ ঘটে বিধায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও শিক্ষকদের অফিস সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়।’
সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিন্টু সরকার বলেন, চারজনের কাজ দুজনে করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। সব বিদ্যালয় পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর উপর উচ্চমান সহকারি ও কম্পিউটার অপারেটর না থাকায় আমাদের সমস্যা আরও বেড়েছে।’
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ সুনামগঞ্জ খবরকে বলেন, ‘দপ্তর সহকারি, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ অফিসের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।’