বিন্দু তালুকদার
এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পাশের হার ৭২ শতাংশ। সুনামগঞ্জে সরকারি-বেসরকারি ২৬ কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী। এই ১০ জিপিএ-৫ এর মধ্যে ৬টি জিপিএ-৫ পেয়ে প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে দুর্গম হাওর পাড়ের শাল্লা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর শাল্লা কলেজ ছিল সারা জেলার আলোচনার বিষয়বস্তু ।
জেলার উন্নয়ন বঞ্চিত অবহেলিত উপজেলা শাল্লা। জেলা সদরের সাথে যে উপজেলা সদরের এখন পর্যন্ত সড়ক পথে
যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি, বছরের অধিকাংশ সময় যে উপজেলার মানুষরা থাকেন পানিবন্দী সেই এলাকার কলেজের ৬ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায়।
জানা যায়, চলতি বছর শাল্লা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসির মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩৪৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগে ২৬ ও হিসাব শাখার ৩ জনের সবাই পাশ করেছে। মানবিক শাখায় ৩১৪ জনের মধ্যে পাশ করেছে ২৫৭ জন। বিজ্ঞান শাখার ৫জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এবারের পাশের হার ৮৩.৩৮ শতাংশ। ২০১৫ সালে ১৭ জন ও ২০১৬ সালে ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল শাল্লা ডিগ্রি কলেজ। শাল্লা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, সুস্মিতা সরকার চাপা, ঐশি আফসানা, দিতি চৌধুরী পলি, তন্নি দাস, সৌরভ বিশ্বাস ও অমিতাভ চৌধুরী।
হাওর পাড়ের এই কলেজটি ১৯৮৬ সালের ১ অক্টোবর স্থাপিত হয়। বর্তমানে কলেজের ছাত্র সংখ্যা ১৩৩০ জন, শিক্ষক-শিক্ষিকরা রয়েছেন ২০ জন। কলেজটিতে ডিগ্রি কোর্স চালু রয়েছে এবং সরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এই কলেজটি।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী দিতি চৌধুরী পলির বাবা স্বাস্থ্যকর্মী দিপক কান্তি চৌধুরী বলেন,‘ আমার মেয়ে এসএসসিতে অল্পের জন্য জিপিএ-৫ পায়নি। কিন্তু এইবার শিক্ষকদের নজরদারীসহ সবার প্রচেষ্টায় সে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। আমার মেয়ের এই ফলাফলে খুবই খুশি।’
আরেক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী তন্নী দাসের মা শিক্ষিকা মিটু রানী দাস বলেন,‘ ছাত্র-ছাত্রীদের ভাল ফলাফলের জন্য কলেজের শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক ছিলেন। শিক্ষকরা নিয়মিত বাসায় এসে খোঁজ খবর নিয়েছেন। মূলত শিক্ষকদের চেষ্টায় ভাল ফলাফল এসেছে। ’
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুব্রত দাস খোকন বলেন,‘ অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত শাল্লার উন্নয়নে শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল অর্জন করে এলাকার সুনাম বৃদ্ধি করছেন। ’
শাল্লা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডি সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন চৌধুরী বলেন,‘ কলেজের লেখাপাড়ার মান নিয়ে সকল শিক্ষকই আন্তরিক। গত কয়েক বছর ধরে আমরা ধারবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছি। আমাদের কলেজের ১১০জন ছাত্র সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছে।’
কলেজের অধ্যক্ষ আ. শহীদ বলেন,‘ আমরা ২০১৫ সালেও ১৭টি জিপিএ-৫ পেয়ে জেলায় প্রথম হয়েছিলাম। এইবারও ৬টি জিপিএ-৫-এ আমরা জেলায় শ্রেষ্ঠ হয়েছি। ভাল কিছু করার জন্য আমাদের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ছিল। কলেজের শিক্ষকরা খুবই আন্তরিক, তারা ছাত্রদের বাড়ি বাড়ি যান। আমি নিজেও ছাত্রদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের ফলাফল ভাল হয়েছে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। এইবার জিপিএ-৫ কমলেও এই ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট। ’