- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শিক্ষকদের অবহেলায় পরীক্ষা দিতে পারেনি তামান্না

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বীরগাঁও ইমদাদুল হক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিলো পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের হাঁসকুড়ি গ্রামের দিনমজুর তাজনূরের মেয়ে তামান্না আক্তারের। কিন্তু শিক্ষকদের অবহেলায় টেস্ট পরীক্ষায় নিয়মিত হওয়ার পরেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। আর এ ঘটনায় মেধাবী ছাত্রী তামান্না মানসিকভাবে
একেবারেই ভেঙে পড়ছে।
তামান্না ও তার বাবা জানান, এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় নিয়মিতভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছিল তামান্না। শিক্ষকরা রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৩ হাজার ১শ টাকা নির্ধারণ করলে তার পরিবারের পক্ষে তৎক্ষণাৎ এতো টাকা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তার বাবা ১ হাজার টাকা দশম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষকের কাছে জমা দিয়ে আর্থিক সমস্যার কথা জানান, কিছুদিন পরে বাকী টাকা দেওয়ার সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন।
তামান্না জানায়, ‘এক হাজার টাকা জমা দেওয়ার পরও নিয়মিত সে বিশেষ ক্লাস করেছে। জরুরী কোনো কারণ ছাড়া ক্লাস মিস করেনি। সব সময় স্কুলে যাওয়ার পরও কোনো শিক্ষক তাকে বাকী টাকার কথা বলেন নি। প্রায় দেড়মাস অতিক্রম হওয়ার পর এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশ পত্র বিতরণের সময় বাকী টাকা জমা দিয়ে প্রবেশপত্র নেওয়ার কথা বলেন শিক্ষক। সর্বশেষ ২ ফেব্রুয়ারী পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র আনতে গেলে তার রেজিস্ট্রেশন হয়নি বলে জানান শিক্ষকরা।
অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজ মিয়া জানান, মেয়ের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ সত্য নয়। মেয়েকে আমরা বার বার বলেছি টাকা না দিলে রেজিস্ট্রেশন হবে না। যদি আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যার কথা বলতো আমরাই এর ব্যবস্থা করে দিতাম। কিন্তু বিশেষ ক্লাসেও অনিয়মিত ছিলো সে। যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। আমরা ম্যানিজিং কমিটির সদস্য, সভাপতি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মেয়ে ও তার বাবাকে বুঝিয়েছি। দুঃখ প্রকাশ করেছি।
পূর্ব বীরগাঁও স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি ছাইদুল ইসলাম বলেন, তামান্নার সাথে যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অমানবিক। একজন ছাত্রীর সাথে এমন আচরণ না করলেও পারতেন শিক্ষকরা। তাদের মনে রাখা উচিৎ তারা শিক্ষক। হেয়ালিপনা করে একজন ছাত্রীর জীবন থেকে এভাবে একটি বছর কেড়ে নেওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক রঞ্জন পুরকায়স্থকে মুঠোফোনে বার বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার একাডেমিক সুপারভাইজার নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি আমি পরস্পর শুনেছি। লিখিত কোনো অভিযোগ এখনো আসেনি। যদি আসে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • [১]