- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শিক্ষকের ডিটেনশনের শিকার স্কুলছাত্র নেছার আহমদের মৃত্যুতে বাঙালি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া

লন্ডন প্রতিনিধি
শিক্ষকের ডিটেনশনের শিকার ইষ্ট লন্ডনের টাওয়ারহ্যামলেটস এর বো-স্কুলের বাঙালি স্কুলছাত্র নেছার আহমদ (১৪) ৫দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে অবশেষে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে। তার অকাল মৃত্যুতে বৃটেনের বাঙালি সহ এ্যাথনিক কমউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পাশাপাশি বৃটেনের বাঙালি কমউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ কয়েকটি সংগঠন ও এর বিচারের জন্যে  সোচ্চার হয়েছে  অনেকেই এটিকে রেসিষ্ট আখ্যাখিত শিক্ষকের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৪ বছর বয়সী বো স্কুলের ছাত্র নাসের আহমদ গত ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার যথারীতি স্কুলে গেলে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমার্জেন্সী সার্ভিসকে কল করলে প্যারামেডিক দল উপস্থিত হয় এবং পরবর্তীতে তাকে রয়েল লন্ডন হসপিটালে ভর্তি করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা অবস্থায় ৫দিন পর মৃত্যুবরণ করে।
এদিকে নিহত স্কুল ছাত্রের পিতামাতা বলছেন ঐদিন সহপাঠি দুই ছাত্রের মারামারির সময় সে কাছে ছিল। নাসেরও অপরাধ করেছে এমন অভিযোগে তাকে স্কুলের বেসমেন্ট একাকি ডিটেনশনে রাখা হয়। পরবর্তীতে সে এ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষকে তার এ্যাজমা রোগের বিষয়ে আগ থেকে তার পরিবার জানিয়েছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় স্কুল থেকে ঐদিন সকাল ১১:৪০ মিনিটে কল আসে নাসেরের পিতার কাছে নাসেরকে ডিটেনশনে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জানানো হয় স্কুলের পরে আরো ৪৫ মিনিট ডিটেশনে রাখা হবে। নাসেরের পরিবার বিশ্বাস করে সে ডিটেশন রুমে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে, সে ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়ে, তারপর এ্যাজমা বা হাঁপানি রোগে আক্রান্ত। বেলা ২:৪০ মিনিটের সময় নাসেরের পিতা মি. জামানকে স্কুলের রিসিপশন থেকে তার মোবাইল নাম্বারে নাসের অসুস্থ্যতার কথা জানানো হয়। তিনি ফোন পেয়ে ছুটে যান স্কুলে সেখানে গিয়ে দেখতে পান তার ছেলে বেইসমেন্টের একটি রুমে মাটিতে পড়ে আছে। এসময় এম্বুলেন্সও আসে।
এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় হাসপাতালে থাকার পর ১৪ ডিসেম্বর সোমবার সন্দ্যায় নাসের লাইফ সাপোটে থাকা অবস্থায় মৃত্যুর কুলে ঢলে পরে। এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ নাসেরকে একটি রুমে ডিটেনশনে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, নাসের অসুস্থ্য হয়ে পড়লে দ্রুত ডাক্তার কল করা হয় এবং তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। অন্যদিকে নাসেরর পরিবার ও সহপাঠিরা জানিয়েছেন নাছেরকে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ডিটেনশন হিসেবে তাঁকে স্কুলের বেইসমেন্টে একটি ছোট্ট রুমে আবদ্ধ করে রাখলে সে ভয়ে এবং ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্কুল বলছে তারা এম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে পাঠায় এবং তার পিতাকেও খবর দেয়া হয়। নাছের এমনেইই এজমা রোগী এ বিষয়টি স্কুলের জানা থাকলেও কেন তাকে এমন সাজা দেয়া হলো যার কারনে তাকে মৃত্যুবরব করতে হয়। টাওয়ার হ্যামলেটস এর মেয়র জনবিগস পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সেই সাথে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

  • [১]