স্টাফ রিপোর্টার
শিক্ষকের মারধরে আহত এক মাদ্রাসা ছাত্রকে (১৫) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক গা ঢাকা দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের মোহাম্মদপুর এলাকায় বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় ছয়মাস আগে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে মা’আরিফুল কুরআন ওয়াস্সুন্নাহ মাদারাসা নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করেন হাসন আহমদ ওরফে দুলাল নামের এক ব্যক্তি। তিনিই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের বিছনা গ্রামে তার বাড়ি।
ওই মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদ্রাসায় ৮০জন শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে ৬০ জন মাদ্রাসায় থাকে। বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা পড়ার সময়ে নাফিসুজ্জামান নামের ওই শিক্ষার্থীর কাছে আরেক শিক্ষার্থী কয়টা বাজে জানতে চায়। পড়ার সময় কথা বলায় নাফিস বিরক্ত হয়। এ নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক হাসান আহমদ শিক্ষার্থী নাফিসের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সে শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং তর্কাতর্কি করে। পরে সে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে তারা তাকে আটকে রাখেন। এ সময় দড়ি দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার অভিভাবককে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত দশটার দিকে অভিভাবকেরা গিয়ে সেখান থেকে তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছে। ওই ছাত্রের বাড়িও জামালগঞ্জে বিছনা গ্রামে।
ওই ছাত্রের বাবা নুরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আমার ছেলেকে কয়েকজন শিক্ষক দড়ি দিয়ে বেধে মারধর করেছেন। তার পিঠে ও হাতে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখন সে হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমরা থানায় মামলা করব।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ওই প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা হাসান আহমদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষক নবীর হোসাইন ও শাহেদ আলী দাবি করেছেন, তারা শিক্ষার্থী নাসিফকে মারধর করেননি। সে যাতে বের হয়ে যেতে না পারে এজন্য দড়ি দিয়ে বেধে রেখেছিলেন। পরে অভিভাবকেরা এসে তাকে নিয়ে যান।
সদর থানার ওসি মো. সহিদুর রহমান বলেছেন, আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। ওই ছাত্রের পরিবার কোনো অভিযোগ দিলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।