- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শিক্ষামন্ত্রীকে স্বাগতম শিক্ষার উন্নয়নে জনচাহিদা পূরণে আমাদের আশ্বস্থ করুন

দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করতে আজ দিরাই উপজেলায় আসছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুইটি হলো সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মহিলা কলেজ ও পলিকেটনিক ইনস্টিটিউট। প্রবীণ রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ভাটি বাংলার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা, দেশের সংসদীয় রাজনীতিকে এগিয়ে নেওয়াসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাঁর অনবদ্য অবদান প্রশংসনীয়। তিনি এখন পরিণত বয়সে এসে অবহেলিত নিজ এলাকার শিক্ষার প্রসারে যে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন তাতে এলাকাবাসী সবিশেষ খুশি হবেন নিঃসন্দেহে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদও দেশের রাজনীতিতে একজন সজ্জন ও সৎ ব্যক্তি হিসাবে সুপরিচিত। ছাত্র জীবন থেকে আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে নিজের যে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তিনি গঠন করেছেন তা এখন ব্যয়িত হচ্ছে দেশের শিক্ষার প্রসারে। আওয়ামী লীগের আমলে শিক্ষার উন্নয়নে যুগান্তকারী অনেকগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হচ্ছে তাঁর নেতৃত্বে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বছরের প্রথম দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেয়ার অনন্যসাধারণ দৃষ্টান্তটি বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। একযুগে দেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের অনুঘটকও তিনি। মাত্রই কয়েকদিন আগে দেশের ১৯৯ টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের মতো একটি বড় ঘোষণা আসল। শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া এই নিরব কর্মী ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে শ্রদ্ধাভাজন হয়েছেন। সংগত কারণেই দিরাইবাসী এমন এক গুণী মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আজ আনন্দে উদ্বেলিত। দিরাই উপজেলা সদরে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শুভ উদ্বোধনের এই লগ্নে আমরাও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও নূরুল ইসলাম নাহিদকে সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কর্মমুখী শিক্ষা ও নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত দিরাই উপজেলায় নিজ নামে যে দুইটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন সেগুলো সরকারের এই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। ইতোমধ্যে ভবন নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অনানুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। আমরা প্রতিষ্ঠান দুইটির শুভযাত্রা কামনা করি। একইসাথে প্রত্যাশা করি যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুইটি নামসর্বস্ব কিংবা সার্টিফিকেট সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পরিবর্তে যাতে সত্যিকার অর্থেই শিক্ষার প্রসারে নিয়োজিত হয় এবং ধীরে ধীরে নিজের সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে। সক্ষমতা বাড়ানোর জায়গায় আরও বহু কাজ করতে হবে। বিশেষ করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে হলে ব্যাপক সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন পড়বে। যুগপোযোগী কোর্স প্রণয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রয়োজন পড়বে। অন্যদিকে মহিলা কলেজকে শক্তিশালী করতেও আরও নানা উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।  আমরা আশা করব সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও শিক্ষামন্ত্রী এই বিষয়ে সচেতন রয়েছেন এবং এজন্য যা প্রয়োজন তাই করবেন।
সুনামগঞ্জে একটি মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সটাইল ইন্সিটিউট প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি রয়েছে। এরমধ্যে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের জন্য জমি চিহ্নিতপূর্বক অধিগ্রহণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের ফলে এটি এক ধাপ এগিয়ে গেছে ইতোমধ্যে। সারা দেশের মধ্যে বিভিন্নক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ জেলা অনেক পিছিয়ে আছে। এ জন্য জেলার শিক্ষার হারও জাতীয় পর্যায় থেকে অনেক পিছনে। সংগত কারণেই চাকুরি, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ জেলার মানুষ পেছনের সারিতেই রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে জেলা সুনামগঞ্জের মানুষকে জাতীয় পর্যায়ের অগ্রগতির জায়গায় নিয়ে যেতে বেশ কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। উপরের জনচাহিদাগুলো এই আকাক্সক্ষা থেকেই উৎপন্ন হয়েছে। আমরা আশা করব শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এইসব বিষয়ে জেলাবাসীকে আজ আশ্বস্থ করবেন।

  • [১]