ধর্মপাশা প্রতিনিধি
সকাল সাড়ে দশটা। ততক্ষণে বিদ্যালয়ে পুরোদমে পাঠদান চলার কথা। কিন্তু প্রতিটি শ্রেণিকক্ষই ফাঁকা। নেই কোনো শিক্ষক নেই কোনো শিক্ষার্থী। মাকসুদা বেগম নামের একজন শিক্ষক অফিস কক্ষে বসে আছেন। তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। শনিবার ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন ভিডিও চিত্র উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সরস্বতীপুর গ্রামের সারোয়ার জাহান মামুন নামের এক সাবেক কলেজ শিক্ষক বিদ্যালয়টির বেহাল চিত্র ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেন। তখন থেকেই ফেসবুক থেকে ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি মহল সারোয়ার জাহান মামুনকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের এমন চিত্র প্রতিদিনের জানিয়ে সারোয়ার জাহান মামুন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের এমন বেহাল দশার জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতিই দায়ী। কেন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে না তার কারণ বের করা দরকার। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে দ্রুত অভিভাবক ও মা সমাবেশ করার পাশাপাশি নতুন শিক্ষক পদায়ন করতে হবে।’
সরস্বতীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ৬ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ৩ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। এদের মধ্যে একজনের অন্যত্র চাকরি হওয়ায় বিদ্যালয় ছেড়েছেন এবং অন্যজন চলতি বছরের শুরু থেকে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। ফলে তখন থেকে মাকসুদা বেগম বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম চালাতে থাকেন। ফলে গেল ১২ এপ্রিল পার্শ্ববর্তী রাজেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে আবুল কাশেম নামের এক শিক্ষককে এ বিদ্যালয়ে প্রেষণে দেওয়া হয়। আবুল কাশেমও শারীরিক অসুস্থতা (হার্টের সমস্যা) ও দাপ্তরিক কাজের কারণ দেখিয়ে প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। ফলে একজন শিক্ষকের পক্ষে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালানো সম্ভব হয়ে উঠে না। শিক্ষার্থীরা না আসায় শিক্ষকেরা কিছু সময় বিদ্যালয়ে থেকে স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যান। এদিকে অনেক অভিভাবক তাদের শিক্ষার্থীদের গ্রামে এনজিও চালিত একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দিচ্ছেন। শনিবার সকালে মাকসুদা বেগম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও আবুল কাশেম অনুপস্থিত ছিলেন।
সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি হার্টের রোগী। শরীর খারাপ থাকায় এবং উপজেলা সদরে শিক্ষকদের তথ্য অনলাইনে দেওয়ার কাজ থাকায় বিদ্যালয়ে যাইনি।’
সাড়ে দশটায় নয় বরং; নয়টায় লাইভ করা হয়েছে দাবি করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাকসুদা বেগম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আসতে একটু দেরি হতেই পারে। গ্রামের মাঝখানে নদী। কার্তিক মাস থেকে জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত ফেরি নৌকা থাকে। ওই সময় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয় না। বর্ষাকালে পারাপারে সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা কিছুটা দেরীতে পৌঁছায়।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘দাওয়ামারী (ফসল তোলা) নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে না বলে শিক্ষকেরা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছিল এবং অন্যজন শিক্ষকের তথ্য নিয়ে কাজ করায় বিদ্যালয়ে যায়নি।’