সু.খবর ডেস্ক
কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এছাড়া আরও ৭টি উন্নয়ন প্রকল্পও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৪৬০৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮০৬ কোটি ৬০ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৮শ’ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলামসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে মোট ২৭৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর বিপরীতে ২ লাখ ৬৮ হাজার ১৬৯ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন দেয়া হয়। গত অর্থবছর অনুমোদন দেয়া হয় ২১২টি প্রকল্প। এর বিপরীতে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৯২ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে গত অর্থবছরের চেয়ে ৬৩ শতাংশ বরাদ্দ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মোট এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৯০ শতাংশ। এটি প্রাথমিক হিসাব। কেননা এখনও স্বাস্থ্যসহ ২টি মন্ত্রণালয়ের হিসাব যোগ হয়নি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন চূড়ান্তভাবে আরএডিপির বাস্তবায়ন ৯২ শতাংশ হবে, যা গত অর্থবছরে ছিল ৯১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ১২ মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে মোট ৭৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ৭১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, একনেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা যদি জায়গা দেন তাহলে সরকারিভাবে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার করা হবে। তাছাড়া এখন থেকে রাস্তা তৈরি করতে হলে ৪ লেনে করার পরিকল্পনা করতে হবে। ৫০ বছর পরের কথা চিন্তা করে এটা করতে হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৪০ কোটি এবং বিশ্বব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ৮শ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, কলেজ শিক্ষা খাতে সংস্কার ও কৌশল নির্ণয়, কলেজগুলোর ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ, বেসরকারি কলেজগুলোর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নত করা এবং সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের প্রশিক্ষণ শিক্ষা পদ্ধতি উন্নত করা হবে।
এছাড়া যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৭৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন, এটির ব্যয় ২২৮১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০টি শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র স্থাপন, ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল সড়ক উন্নয়ন, ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। উন্নত জাতের গাভী পালনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও উলিপুর উপজেলাধীন বৈরাগীর হাট ও চিলমারী বন্দর ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্প, ব্যয় হবে ২৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। হাতে কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণে মহিলাদের গুরুত্ব দিয়ে বিটাকের কার্যক্রম সম্প্রসারণপূর্বক আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন, এর ব্যয় ৭১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।