- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শিক্ষায় অনগ্রসরতা ঘুচানোর অঙ্গীকারে জয় হোক পুনর্মিলনীর

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনকে কেন্দ্র করে আজ কলেজ ক্যাম্পাসে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সমাগম ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বিদেশে অবস্থানকারী অনেকে এই উপলক্ষে নিজের শহর সুনামগঞ্জে এসেছেন। কলেজের এই উৎসবে শামিল হতে আসা সকল শিক্ষার্থীদের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের পক্ষ থেকে প্রাণখোলা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
হাওরের উচ্চ শিক্ষাপীঠ এই কলেজটি আমাদের সকলের অহংকার। আমাদের পূর্বপুরুষরা যে মহৎ উদ্দেশ্যকে ধারণ করে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁদের সেই উদ্দেশ্য যে সফলতায় পরিপূর্ণ হয়েছে আজকের অনুষ্ঠানে সমাগত কৃতী শিক্ষার্থীরা তার প্রমাণ। প্রান্তিক একটি জেলায় শিক্ষার প্রদীপ জ্বালতে এই প্রতিষ্ঠানটি গত সাড়ে সাত দশক ধরে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে । উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় থেকে ক্রমশ ¯œাতক, সম্মান ও ¯œাতকোত্তর পর্যায়ে উন্নীত হয়ে কলেজটি নিজের সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। সক্ষমতা বাড়ানোর এই গতি সামনের দিনে আরও অগ্রসর হবে নিঃসন্দেহে। কলেজটি যখন শতবর্ষ অতিক্রম করবে তখন এর কার্যকারিতা আরও দৃঢ় হবে। এখানে যারা সমবেত হয়েছেন সকলেই নিজেদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এই কলেজটি অত্রাঞ্চলের যাবতীয় আন্দোলন-সংগ্রাম, অধিকার আদায়সহ বুদ্ধি ও শিল্প-সংস্কৃতিভিত্তিক কর্মকাÐের সূতিকাগার হিসাবে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখে আসছে সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই। মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব ও পরবর্তী কালের প্রতিটি রাজনৈতিক প্রয়োজনে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা সাড়া দিয়ে সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন। বলা যেতে পারে এই কলেজকে কেন্দ্র করেই অত্রাঞ্চলের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই কলেজের শিক্ষার্থীদের আত্মদানের ইতিহাস আমাদের গৌরবগাঁথা। আমাদের অহংকারের এই বিদ্যায়তনের ৭৫ বছর পূর্তি হওয়ার বিষয়টি তাই সকলের নিকট অসীম আনন্দপ্রদ-খুশির উপলক্ষ।
আপনারা দুই দিন উৎসবে মেতে থাকবেন। স্মৃতিচারণায় উদ্বেল হবেন। সতীর্থদের দেখে উচ্ছ¡সিত হবেন। পুরোনো কথা মনে করে আনন্দে আপ্লুত হবেন। ভুলে যাওয়া অনেক স্মৃতি খোঁজে পাবেন এই ক্যাম্পাসে। আপনাদের এইসব স্মৃতি খোঁজার প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দদায়ক হোক, আপনারা উৎসবের প্রতিটি ক্ষণ নির্মল অনুরাগে উপভোগ করুন এই আমাদের কামনা।
এই জেলাটি এখনও শিক্ষার মান ও গুণগত অবস্থানে জাতীয় পর্যায়ে একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে। মেধাভিত্তিক জাতীয় প্রতিযোগিতায় সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীরা ক্রমশ অবস্থান হারাচ্ছে। শিক্ষার এই অধোগমন আমাদের বর্তমান সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জ্ঞানভিত্তিক বিশ্ববাস্তবতায় এখন মেধার উৎকর্ষতা ভিন্ন টিকে থাকার কোনো পথ নেই। তাই আমাদের জেলাকে অবশ্যই শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও অনেক দূর অগ্রসর করে নিয়ে যেতে হবে। আজকে যখন আপনারা নিজেদের ঐতিহ্যের অহংকার এই কলেজ ক্যাম্পাসে অতীত স্মৃতি রোমন্থন করবেন তখন কীভাবে আমরা শিক্ষার অনগ্রসরতা দূর করতে পারি সে নিয়েও নিশ্চয়ই আপনার ভাববেন এবং মূল্যবান পরামর্শ দিবেন। শিক্ষার মান ও পরিমাণগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার অনেক কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগী হয়েছেন। আমাদের সজ্জন পরিকল্পনামন্ত্রীর সদিচ্ছায় এখানে মেডিক্যাল কলেজ ও টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষে আমরা বহু দূর অগ্রসর হয়েছি। এখানে একটি কৃষি বিশ্বদ্যিালয়ও স্থাপন করার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এইসব উদ্যোগ নিশ্চিতভাবেই জেলার শিক্ষা চিত্রকে ইতিবাচকভাবে বদলে দিবে। এরকম এক প্রেক্ষাপটে এই সম্মিলন থেকে বর্ণিত উদ্যোগ বাস্তবায়নসহ আরও করণীয় নির্ধারণে আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন একান্ত প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।
কলেজ ক্যাম্পাসে আপনাদের পদচারণায় এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের একটি আন্দোলনের সূচনা ঘটুক, একটি দৃঢ় সংকল্প তৈরি হোক, এই কামনায় ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আবারও অভিনন্দন। জয় হোক পুনর্মিলনীর।

  • [১]