জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের পাড়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেনের পাশে দাঁড়াতে চান অনেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও তার পড়ালেখার খরচ জোগাতে সহায়তা করতে সহযোগিতার হাত বাড়াতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেউ কেউ। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় তিন শিক্ষা সংগ্রামীর সাথে আমির হোসেনের শিক্ষা সংগ্রামের খবর প্রকাশিত হলে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। জগন্নাথপুর
থানার ওসি মোহাম্মদ হারুণ রশিদ চৌধুরী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিতে দেড় শতক জায়গা বিক্রি করে দেয়ার ঘটনাটি পড়ে ব্যথিত হন। তিনি ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ওই দেড়শতক জায়গা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে জায়গা ক্রয়কারী আব্দুল হান্নানের সাথে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি জগন্নাথপুর গ্রামের কৃতীসন্তান যুক্তরাজ্য প্রবাসী এম.এ কাদির ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম ১০ হাজার টাকা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিল্পপতি উপজেলা আওয়ামীলীগ কোষাধ্যক্ষ মাহবুবুল হক শেরিন ১০ হাজার টাকা দেয়ার ঘোষণা দেন।
এছাড়াও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আলামীন রহমান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ দেয়ার ঘোষণা দেন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী হবিবপুর গ্রামের শামসুল ইসলাম রাজন বন্ধুদের নিয়ে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাষ্ট সভাপতি মহিব উদ্দিন চৌধুরী জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর ট্রাস্টের ইসি কমিটির সভায় এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ছেলেটির পড়ালেখার দায়িত্ব নিতে চেষ্টা করব।
আমির হোসেন বলেন, ‘অনেকেই আমাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার ঘোষণা দেয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে আমার প্রিয় শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এম এ মতিন ও সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদকের নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি যেন সবার সহযোগিতায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি এই দোয়া চাই।’
শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এম এ মতিন বলেন, ‘আমির হোসেন মানুষের ভালবাসায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেই আমরা খুশি। আমি আশাবাদি শিক্ষা সংগ্রামী আমির হোসেন মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে পারবে। আমি তার মঙ্গল কামনা করছি।’