অধ্যাপক মো. আবু নাসের
জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীত শিল্পী দিগ্নিজয় চৌধুরী আর নেই। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । ভালবাসা যেখানে প্রবল, কলম সেখানে স্তব্দ। দাদাকে নিয়ে লিখার মত , সাহস আমার নেই। ছোটবেলা থেকেই দাদাকে দেখেছি, পাশাপাশি বাসা , বড় ভাই শাহ আবু তাহেরের বাল্যবন্ধু। দুজনেই ছিলেন সংস্কৃতিমনা, তাহের ভাই ছিলেন নাট্য শিল্পী, দাদা ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী। আমাদের পাড়ায় যদি সকাল সন্ধ্যা সুবের মুর্ছনা ভেসে আসত সেটা তাদের তাদের বাসা থেকেই। সাংস্কৃতিক পরিবারের সন্তান শিবু দা ছোটকাল থেকেই সঙ্গীতচর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধশালী করার জন্য যে কয়জন ব্যাক্তির বিশেষ অবদান রয়েছে তার মধ্যে শিবু দা অন্যতম। দাদার গান শুনার জন্য সুনামগঞ্জবাসী অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করত, দদা কখন মঞ্চে আসবেন। সদা হাস্যউজ্জ্বল সদালাপী শিবু দা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী শিবু দা ছিলেন সুনামগঞ্জের প্রিয়মুখ। ছোটবেলা থেকেই থাকে আমি আপন বড় ভাইয়ের মত শ্রদ্ধা করতাম। কোনদিন থাকে আমি হাসিমুখ ছাড়া দেখিনি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যিনি গান গেয়ে আমাদের কে উজ্জীবিত করতেন, শহীদ মিনারে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতাম দাদা কখন সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। হাসি দিয়ে বলতেন নাসের কেমন হল। সেই হাসি আর কোনদিন দেখতে পাব না, কিন্তু দাদা আপনি সুনামগঞ্জবাসীর হৃদয়ে থাকবেন চিরদিন। জেলা শিল্পীকলা একাডেমীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিবু দার গুণকীর্তি সঙ্গীত জগতে ফুলের মত সুভাস ছড়াবে। মৃত্যু তাকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলে ও সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক জগতে শিবু দা স্মরনীয় হয়ে থাকবেন তার সৃষ্ঠিকর্মের মাধ্যমে। বন্ধু রঞ্জন ( দেবদাস) কে বলি আমাদের সবাইকে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যেতে হবে, কিন্তু তুমি বর্তমানে সাংস্কৃতিক জগতে যে অবস্থানে রয়েছ, তুমি দাদার শূন্যতা পূরণ করবে। পরিশেষে শিবু দার পরিবারের প্রতি রইলো আমার গভীর সমবেদনা আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।
লেখকঃ নাট্য নির্দেশক, নাট্যকর্মী