লিপসন আহমেদ
বেশ কিছু দিন ধরে জ্বর এবং সর্দি-কাশিতে ভুগছে আরশাদ আলীর নয় মাসের শিশু মাহাদী হাসান। শুরুতেই গ্রামের স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করালেও শিশুটির অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রবিবার রাত ১২টায় সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
মাহাদীর মতো শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুনামগঞ্জে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে। প্রতিদিনই সর্দি, জ্বর, হাঁপানি এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। গত এক সপ্তাহে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭০০ শ’ শিশু ভর্তি হয়েছে। অনেক শিশুরোগী বেড না পেয়ে মেঝেতে বেড পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগও। তবে নবজাতক শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ডাক্তার ও লোকবল সংকটের কারণে দায়িত্বশীলদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা শিশুদের অভিভাবকরা অপরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত পরিমাণ শয্যা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন । অপরিচ্ছন্নতার কথা স্বীকার করে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, লোকবল সংকটে হাসপাতালের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের ভিতরে ঢুকতেই দুর্গন্ধ নাকে আসে। দেখা যায়, বিছানার চাদর, পর্দাসহ সবই ময়লা। শিশু ওয়ার্ডের সামনে নেই হাত ধোয়া কিংবা জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা।
দোয়ারাবাজারের গোপালপুর গ্রাম থেকে আসা আরশাদ আলী বললেন, আমার একমাত্র ছেলে গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ। স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়েছি, কোন লাভ হয়নি। রোববার রাতে তাকে নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এসেছি। হাসপাতালের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন। শিশু ওয়ার্ডের ভিতরে চারদিকে খুব দুর্গন্ধ।
পৌর শহরের ওয়েজখালী বাসিন্দা শিরিনা বেগম বলেন, আমার নাতির ঠান্ডা লাগার কারণে হাসপাতালে গত দুইদিন ধরে ভর্তি। সিট খালি নাই সেই জন্য নিচে থাকতে হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈকত দাস বলেন, শীতে শিশুদের প্রতি একটু বিশেষ নজর রাখলে ঠা-াজনিত রোগ এড়িয়ে যাওয়া যায়। যেমন শিশুকে গরম পানিতে গোসল করানো যেতে পারে। তা না পারলেও শিশুর গায়ে যেন গরম জামা-কাপড় থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। খোলা হাওয়ার মধ্যে শিশুকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া ঠিক হবে না।
তিনি জানান, ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত একসপ্তাহে ৭০০ শ’ শিশু ভর্তি হয়েছে। বেশির ভাগ শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠা-াজনিত রোগ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। বিশেষ করে শিশুদের নিউমোনিয়া হলে ফার্মেসি থেকে ওষুধ না নিয়ে চিকিৎসকের কাছেই আসা উচিত। পুষ্টিকর খাবার খাওয়ালে একই সাথে সঠিক ওষুধ দেয়া হলে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিউমোনিয়া সেরে যায়।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, শীতের প্রকোপ বাড়ায় বেশিরভাগ শিশু ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালে লোকবল ও ডাক্তার সংকট থাকায় আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সিট সংখ্যার তুলনায় রোগী বেশি থাকায় অনেক রোগীকে নিচে থাকতে হচ্ছে।