বিজয় রায়, ছাতক
ছাতকে আলোচিত শিশু ইমন হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সিলেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুনামগঞ্জ থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সিলেটে স্থানান্তর করার বিষয়টি ২১ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। মামলা দায়েরের প্রায় ১ বছর ৪ মাস পর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল সিলেটে স্থানান্তরিত হলো। ফলে বিচার দ্রুত নিস্পত্তি ও সুবিচার পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন নিহত শিশু মোস্তাফিজুর রহমান ইমনের পিতা ও মামলার বাদী জহুর আলী। সেই সাথে মামলাটিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মামলার বাদী ।
ইমন উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী
জহুর আলীর পুত্র ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র ছিলো। ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ বিকেলে নিজ বাড়ির আঙ্গিনা সংলগ্ন ছাতক-দোয়ারা সড়ক থেকে শিশু ইমনকে অপহরণ করে ঘাতক বাতিরকান্দি গ্রামের মসজিদের ইমাম ও নোয়ারাই ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারী সুয়েবুর রহমান সুজন ও তার সহযোগীরা। ২৮ মার্চ নিহত ইমনের পিতা জহুর আলী বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছাতক থানায় মামলা (নং-৩২) দায়ের করেন। এদিকে মুক্তিপণের দু’লক্ষ টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে থাকে। ৬ এপিল রাতে ইমনের বাড়ী সংলগ্ন মসজিদের আঙ্গিনায় এনে ইমনকে হত্যা করার পরিকল্পনা নেয় অপহরণকারীরা। এ সময় শিশু ইমন পানির পিপাসায় কাতরাতে থাকলে খুনিরা তাকে বিষ মেশানো পানি পান করতে দেয়। এ পানি পান করে বিষের জ্বালায় ছটফট ও বমি করতে থাকলে ধরা পড়ার আশংকায় ঘাতক সুজনসহ তার সহযোগিরা ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনকে নির্মমভাবে জবাই করে। পরে ইমনের লাশ বস্তাবন্দি করে পার্শ¦বর্তী হাওরে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসষ্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী ঘাতক ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ তল্লাশী চালিয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুড়ি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় বাতিরকান্দি মসজিদের পার্শ্বের একটি গর্ত থেকে উদ্ধার করে। স্বীকারোক্তি অনুযায়ি পরবর্তিতে ইমন হত্যায় জড়িত বাতিরকান্দি গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র জাহেদ, মৃত আব্দুল মুক্তাদিরের পুত্র রফিক, ইসমাইল আলীর পুত্র বাচ্চু, মৃত আব্দুল করিমের পুত্র আব্দুল বাহার ও আব্দুল লতিফের পুত্র নুরুল আমিন (৪৫)কে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রায় ৭ মাস জেলহাজতে থাকার পর বর্তমানে জামিনে রয়েছে আব্দুল বাহার ও নুরুল আমিন। ২২ এপ্রিল বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড্ডি উদ্ধার করে পুলিশ। আসামীদের মধ্যে জামাত নেতা সুয়েবুর রহমান সুজন, বাচ্চু, জায়েদ, রফিক রয়েছে জেলহাজতে। এ মামলার অন্যতম আসামী সালেহ আহমদ পলাতক রয়েছে।
মামলার বাদী নিহত মোস্তাফিজুর রহমান ইমনের পিতা জহুর আলী জানান, তার শিশুপুত্র ইমন হত্যাকারীদের বিচারের মাধ্যমে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার অপেক্ষায় রয়েছি।