- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শিশু হত্যাকারী তৌহিদের উপযুক্ত বিচার হোক

তৌহিদ মিয়া বিপজ্জনক ভয়ংকর মেজাজের এক খুনী। কোন কারণ ছাড়াই সে খুন করে। বিশেষ করে শিশুদের কুপানোয় তার বিশেষ উৎসাহ। ২০১৫ সনের ২০ সেপ্টেম্বর সে তাহিরপুরে অভিক নামের এক শিশুকে কুপিয়েছে। শিশুটি মরে যেতে পারত। ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে। অভিকের কব্জি কেটে দিয়েছিল তৌহিদ। প্রাণভয়ে অভিক দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে শনির হাওরে পানিতে ঝাঁপ দেয়। খুনী তৌহিদ পানিতেও ধেয়ে আসে। কুপাতে থাকে এলাপাতাড়ি। শিশুটির ডান চোখ নষ্ট হয়ে পড়ে। শিশু তৌফিক ওই ভয়ানক ঘটনার বিভৎসতা এখনও ভুলতে পারেনি। ওই দিনের আতংক এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেদিনের শিশু অভিক এবার এসএসসি পরিক্ষার্থী। এরই মাঝে খুনী তৌফিক আবারও পুরনো খুনী মেজাজের প্রকাশ ঘটায়। এবার ঘটনাস্থল জামালগঞ্জ। জামালগঞ্জের পূর্ব লক্ষীপুর গ্রামের রিহান নামের ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে সে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশ বলেছে, তৌহিদ ২০১৩ সনে বগুড়ায় অগ্নিসংযোগ মামলার আসামী। অভীক কিংবা রিহানকে কুপানোর পিছনে বাহ্যত কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাধারণত খুনের মোটিভ বলতে যা বুঝায় তার উপস্থিতি এসব ক্ষেত্রে তেমন করে পাওয়া যাবে না। তাহলে তৌহিদ কেন পরপর শিশুদের খুন করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে? এমন প্রশ্নের জবাবে কেউ কেউ তাকে অপ্রকৃতস্থ বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। তার পরিবার থেকেও এমন কথাই বলা হচ্ছে। তৌহিদের চাচাত ভাই এমদাদুল হুদা জানিয়েছেন, ছোট বেলায় নেশা করত তৌহিদ। একসময় সিলেটে গিয়ে রিক্সা চালাত সে। তখন তার মাথায় সমস্যা হয়। শীত আসলে মাথার সমস্যা বাড়ে। ২০১৫ সনের ঘটনায় সে যখন জেলে ছিল তখন জেলের ভিতরও মারপিট করত বলে জানিয়েছেন এমদাদুল হুদা। অর্থাৎ তৌহিদ মানসিকভাবে চরম অপরাধপ্রবণ এক ব্যক্তি। সে খুনের নেশায় থাকে। সুযোগ পেলেই সে হয়ে উঠে ভয়ংকর। বিভিন্ন সময় আমরা সিরিয়াল কিলার শব্দটি শুনি। এমন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা সমাজ ও দেশের জন্য অতিশয় বিপজ্জনক। এদের থামাতে না পারলে এমন খুন-খারাবি বাড়তেই থাকবে।
তৌহিদ যে মানসিক রোগী সেটি কেবল মনোরোগ বিশেষজ্ঞরাই বলতে পারবেন। তবে পারিপাশির্^ক অবস্থা বিশ্লেষণ করে তাকে এমনটি বলার সুযোগ কম। তাহিরপুরে তার কুপানোর শিকার শিশু অভিকের পিতা বলছেন, যেদিন অভিককে কুপিয়েছিল তৌহিদ সেদিন ঘটনাস্থলে তৌহিদের ভাতিজা ও ভাগ্নাও ছিল। সে কিন্তু নিজের ভাতিজা ও ভাগ্নাকে কুপায়নি। কুপিয়েছে অভিককে। অপ্রকৃতস্থ হলে এমন বাছ-বিচার করে কুপানোর কথা নয়। যে ভয়ংকর কথাটি অভিকের পিতা বলেছেন তা হলো- অপ্রকৃতস্থ হিসাবে মুক্তি পাওয়ায় এবার সে জামালগঞ্জের এক শিশুর প্রাণ কেড়ে নিতে পারল। মূলত এটিই হল আসল কথা। অপরাধীদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার কারণ হলো তার অপরাধপ্রবণতার শিকার যাতে আর কেউ না হয় তা নিশ্চিত করা। তৌহিদকে অপ্রকৃতস্থ বিবেচনায় মুক্তি দেয়া হলেও তার মানসিক সুস্থতার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি। এখন রিহানের বাবা-মার কাছে কী জবাব দেয়া যাবে?
তৌহিদ মূলত বিকৃত ধরণের অপরাধী। সে অপ্রকৃতস্থ হোক কিংবা মৌসুমী মানসিক রোগী হোক অথবা খুন করে বিকৃত আনন্দে মত্ত হওয়ার মত ব্যক্তি হোক; সর্বাবস্থায়ই তাকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা দরকার। অন্যদের নিরাপত্তার জন্যই এটি সর্বাধিক জরুরি। তৌহিদ এখন আইনের আওতায় রয়েছে। তার যাবতীয় অপরাধের উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিৎ। শিশু অভিক এখনও তৌহিদের চেহারা মনে করে আঁতকে উঠে। রিহানের বাবা-মার সন্তান হারানোর কষ্ট কোন কিছু দিয়েই দূর করা যাবে না। কেবল খুনী তৌহিদের উপযুক্ত বিচার হলেই তারা কিছুটা শান্ত¡না পাবেন। অন্তত একজন জঘন্য বিকৃত অপরাধীর হাত থেকে বেঁচে যাবে সমাজ।

  • [১]