বিশেষ প্রতিনিধি
ইউপি নির্বাচনের পর পরই অর্থাৎ জুলাই মাসেই সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সম্মেলন হতে পারে বলে দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন। জেলা বিএনপি’র প্রথম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় জেলা সম্মেলন দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলেও দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। জেলা সম্মেলন শীঘ্রই হচ্ছে জেনে জেলায় সভাপতি-সম্পাদক কে হচ্ছেন এ নিয়েও কথা বার্তা শুরু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি ত্রি-ধারায় বিভক্ত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপি, ১১ উপজেলা, থানা ও পৌর বিএনপির পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে প্রথম সদস্য করে ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেন দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
গত দুই বছরে জেলার ১৬ টি সাংগঠনিক ইউনিটের ১২ টির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ৪ টি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠন নিয়ে কোন কোন ইউনিটে মতভিন্নতা এখনো রয়েছে। তবে জেলা বিএনপি জগন্নাথপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ সদর ও সুনামগঞ্জ পৌর কমিটি ছাড়া অন্য ইউনিটগুলোয় সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
সম্প্রতি বিএনপির জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় এক নেতার এক পদ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হওয়ায় জেলা বিএনপির পদ ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় জেলা বিএনপির সম্মেলন ও কমিটি গঠনের বিষয়টি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জেলা বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।
দলীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ নেতা সাবেক হুইপ ফজলুল হক আসপিয়া এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীও কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেতে পারেন।
এই অবস্থায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অন্য নেতৃত্বের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সভাপতি পদে জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ সভাপতি সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ওয়াকিফুর রহমান গিলমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি নাদীর আহমদ, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সেলিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রেজাউল হক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবুল মুনসুর শওকত এবং জেলা ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুলের নাম আলোচনায় রয়েছে।
দলের সিলেট বিভাগের একজন দায়িত্বশীল নেতা তাকে উধৃত না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন,‘সুনামগঞ্জে সংগঠনের জেলা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে জেলা শহরের নেতাদেরকেই রাখতে চান কেন্দ্রীয় নেতারাও’।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন,‘দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের এক পদেই থাকতে হবে, এই অবস্থায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমাকে। আমি কেন্দ্রের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে চাই। জেলার কোন পদে আমি আগ্রহী নয়। ইউপি নির্বাচন শেষ হলেই আমরা জেলা সম্মেলন করতে চাই, এখন উপজেলার নিস্ক্রিয় নেতাদের সংগঠনে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা’।