- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শীতকষ্ট নিবারণে ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসুন

শীত বেশ জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে। সারা দেশেই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আরও মাস দেড়েক শীতের তীব্র প্রকোপ থাকবে। আবহাওয়াবিদরা শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছেন। ঋতু পরিক্রমায় শীতকালে হাঁড় কাঁপানো শীত হবে এটি স্বাভাবিক। উল্টোটা ঘটলে বরং অস্বাভাবিক ঠেকে। এবার কিছুটা দেরিতেই এসেছে শীত। আবহাওয়ার বিরাট পরিবর্তন ঘটে গেছে ধীরে ধীরে। ক্রমশ কেমন করে জানি চরম ভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে আবহাওয়া। গরমে তীব্র গরম, শীতে তীব্র শীত, বর্ষায় বৃষ্টি না হওয়া, অকালে অতিবর্ষণ; এসবই আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখছি। জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে মানুষের পক্ষ থেকেই। কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া বাছবিচারহীনভাবে শিল্পায়ন এর জন্য দায়ী। বলাবাহুল্য এরূপ সংকট তৈরি করেছে শিল্পোন্নত কয়েকটি দেশ। এই সংকট দূর করতে বৈশ্বিক একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে কিন্তু এর অগ্রগতি খুব কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পৃথিবীর বেশির ভাগ কম উন্নত দেশ। আমরাও তার অন্তর্ভুক্ত। ধনি দেশগুলো অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীতার কারণে এই ক্ষতির দায় নিতে চায় না। যাও তাদের উপর যেটুকো চাপানো যায় সেটুকোও তাদের নিকট থেকে আদায় করা হয়ে পড়ে বেশ কঠিন। এমন এক সংকটজনক বিশ্বব্যবস্থার অধিবাসী হিসাবে আমরা যারপরনেই বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দিন যাপন করছি।
এবারের শীতে তেমন করে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির দেখা মিলছে না। দরিদ্রদের শীতবস্ত্র বিতরণের নামে দানশীলতা ও মানবপ্রেমের পরাকাষ্টা দেখানোর এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিলো সমাজে। অন্তত শহর বা তার আশপাশে এরকম প্রচারবিলাসী তৎপরতার খবরে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর একাংশ ভরা থাকতো। এবার সেইসব দাতারা কই? এখনও তেমন তৎপরতা শুরুর খবর পাওয়া যায়নি। তারা কি নিজেদের গরমবস্ত্রের আড়ালে অভাবপীড়িত অঞ্চলগুলো শীতার্ত মানুষের আর্তি অনুভব করতে পারছেন না? অথচ এরকম সহায়তার দরকার সবচাইতে এবারই বেশি। কারণ ইতিহাসের ভয়ানক বন্যায় এবার হাওরের মানুষ আক্ষরিক অর্থেই সর্বশ্বান্ত হয়েছেন। কাঁচা ঘরবাড়ি, ঘরগেরস্থালী সামগ্রীর সাথে তারা পরিধেয় বস্ত্রসামগ্রীও হারিয়েছেন। গ্রামের দিকে গেলে প্রকট বস্ত্রাভাবের বিষয়টি বুঝা যাবে ভাল করে। দরিদ্র গ্রামবাসীর এবারের শীত কাটছে খুব কষ্টে। তাই যারা এবার শীতবস্ত্র বিতরণ করতে চান তাদের প্রতি আমাদের সবিনয়ে আহ্বান থাকবে, দ্রুত আপনাদের কাজ শুরু করুন। শহর বা শহরতলী বাদ দিয়ে গ্রামের মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিন। একই সাথে সরকারি শীতবস্ত্র সহায়তারও দ্রুত শুরু ও সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
বোরো ফসল চাষাবাদের ভর মৌসুম এখন। ভোর সকাল বেলা গ্রামের কৃষক কিষাণীদের ঘুম থেকে উঠতে হয়। কাজে নিয়োজিত হতে হয়। তারা বেশি শীতকষ্টে ভোগছেন। এখন আকাশে সূর্যের দেখা মিলতে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এই চাষীদের সে পর্যন্ত অপেক্ষার সময় নেই। তারা আড়ষ্ট হয়ে বসে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষি। তারা সারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বিধানের জন্য ব্যক্তিগত কষ্ট ভুলে দিনরাত কাজ করে চলেছেন। তাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সম্প্রদায়ের আশু কর্তব্য। এই কর্তব্য পালনে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসার জন্য আমরা সকলের প্রতি অনুরোধ জানাই। আমরা জানি এখন সমাজে বিত্তবান লোকের অভাব নেই। এমন কোনো অঞ্চল পাওয়া যাবে না যেখানে কয়েকজন বৃহৎ ধনি ব্যক্তি খোঁজে পাওয়া যাবে না। তারা এই সময়ে উদারভাবে এগিয়ে আসতে পারেন। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় যদি শীতার্তদের শরীরে একটুখানি উষ্ণতার পরশ লাগিয়ে দেয়া যায় তাহলে যে তৃপ্তিবোধ পাওয়া যাবে তা আর কিছুর সাথে তুলনীয় হবে না। আসুন এই অতুলনীয় তৃপ্তিতে সামর্থবানরা উদ্ভাসিত হই।

  • [১]