ডা. সৈকত দাস
শীত আসার পর হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তিরত ও আউটডোরে চিকিৎসা নেয়া শতকরা ৬০ ভাগ শিশুরই ডায়রিয়ার সমস্যা। কিছু উপসর্গ যেমন শুরুটা হঠাৎ বমি, একটু একটু করে পায়খানা অতঃপর পানির মত পাতলা পায়খানা হয়েই যাচ্ছে, কোন কিছুতেই কমছে না।
এবার হঠাৎ প্রচন্ড শীত পড়াতে ঠান্ডা কাশির পাশাপাশি ডায়রিয়ার প্রকোপও বেড়ে গেছে যার বেশীর ভাগই ভাইরাসজনিত কারণে হচ্ছে।
ভাইরাস ডায়রিয়া সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিন থাকতে পারে। শুরুতেই যদি পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন, পুষ্টিকর খাবার ধৈর্য্য ধরে অল্প অল্প করে খাওয়াতে পারেন, বাচ্চার প্রশ্রাব যদি ঠিক থাকে এবং মুখে স্যালাইন খাওয়ানো যায়, বমি না হয় ; তাহলে বাচ্চাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করা যাবে।
৬ মাসের বেশি বয়সী বাচ্চাদের কাঁচা কলার জাউ, স্যুপ, ডালের পাতলা পানি, ডাবের পানি, বিশুদ্ধ পানি এগুলো বেশি করে খাওয়ান।
৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে।
ডায়রিয়া হলে বাচ্চাদের কখন হাসপাতালে নিতে হবে তা অনেক অভিভাবক বুঝতে পারেন না। দেখা যায় বাচ্চার অনেক পানিশূন্যতা হয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। নিচের সমস্যা গুলো দেখা দিলে বাচ্চাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
বাচ্চা যা খাচ্ছে তাই বমি করে দিলে
মুখে খাওয়া বন্ধ করে দিলে ও প্রস্রাব কমে গেল
পানিশূন্যতা মনে হলে (জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, কান্নায় চোখের পানি না আসা, বার বার পানি খেতে চাওয়া বা কিছুই খেতে না পারা, নেতিয়ে যাওয়া )
যে পরিমান পানি বা স্যালাইন খাওয়াচ্ছেন তার চেয়ে বেশী পায়খানা হওয়া
বাসায় স্যালাইন বানানোর ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। বাচ্চার জন্য সেলাইন আর বড়দের জন্য স্যালাইন বানানোর নিয়ম কিন্তু একই। অনেকেই বাচ্চার জন্য স্যালাইন ভেবে অল্প পানিতে একটু একটু করে স্যালাইন গুলিয়ে খাওয়ান। এভাবে কখনোই স্যালাইন বানাবেন না। ১ প্যাকেট স্যালাইন আধা লিটার পানিতে গুলিয়ে ৬ ঘন্টা পর্যন্ত রাখা যাবে। এরমধ্যে বাচ্চা যতবার পাতলা পায়খানা করবে ততবার ৫-১০ চামচ (যদি বয়স ১ বছরের নিচে হয়) অথবা ১০-২০ চামচ ( বয়স ১ বছরের উপরে হলে) খাওয়াতে হবে।
হাসপাতালে নিলেই বাচ্চা একবেলায় সুস্থ হয়ে যাবে, তা নয়। অনেকেই বাচ্চার পাতলা পায়খানা খুব তাড়াতাড়ি কেন কমছেনা বলে অস্থির হয়ে উঠেন।
যেকোন ভাইরাসজনিত রোগ সারতে ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগে। অযথা দুশ্চিন্তা না করে ধৈর্য্য ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চার যতœ নিন।
লেখক : ডা. সৈকত দাস, এম.বি.বি.এস, বিসিএস(স্বাস্থ্য)
ডি.সি.এইচ (শিশুরোগ-কোর্স), বিএসএমএমইউ, ঢাকা
নবজাতক ও শিশুরোগ চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার,
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ