বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের শীর্ষ তিন পদ প্রায় এক মাস যাবৎ শূন্য থাকার কারণে প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা তৈরি ও সেবাপ্রত্যাশী জনগণের ভোগান্তির উপর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদের তথ্য অনুসারে বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বছরখানেক আগে বদলি হয়ে গেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই পদের অতিরিক্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এক মাসে আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বৈদেশিক প্রশিক্ষণে গমন করায় এটি আবারও শূন্য হয়ে যায়। এদিকে একটি মামলায় জড়িত থাকার কারণে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও গত এক মাস ধরে অফিস করছেন না। ফলে উপজেলা পরিষদের শীর্ষ তিনটি পদে শূন্যতা তৈরি হয়। বর্তমানে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার বিশ্বম্ভরপুরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও হিসাবে কাজ করছেন। ইউএনও’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কর্মবহুল পদে একই ব্যক্তিকে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করা সত্যিকার অর্থে দূরুহ বটে। বাস্তবেও ঘটছে এমনটি। গতকাল প্রকাশিত ওই সংবাদ থেকে আরও জানা যায় কর্মকর্তা শূন্যতার সুযোগ নিয়ে কিছু লোক নানা অনৈতিক কর্মকা-ে লিপ্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি নদীর বোমা মেশিনের ব্যবহারও নাকি বেড়ে গেছে। উপজেলা পরিষদের কিছু দোকান কোঠার ভাড়া নিয়েও নয়-ছয় করা হচ্ছে। এরকম অবস্থায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শীর্ষ পদে পদায়ন জরুরি বলেই মনে করা হচ্ছে।
এ কথা সত্য এখন উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়নমূলক সমস্ত কর্মকা-ই উপজেলা পরিষদকে ঘিরে আবর্তিত হয়। উন্নয়ন কাজ ছাড়্ওা সরকারি বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের। উপজেলা পর্যায়ে বহু কমিটির সভাপতি ইউএনও। অন্যান্য দপ্তরের অনেক কাজের সাথে ইউএনও’র রয়েছে সরাসরি সম্পৃক্ততা। ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করতে হয় এসি ল্যান্ডকে। এরকম ব্যস্ত পদগুলো দিনের পর দিন খালি রাখা উচিত নয়। আমরা আশা করব জেলা প্রশাসন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগক্রমে শীঘ্রই বিশ্বম্ভরপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদায়নের ব্যবস্থা নিবেন।
সীমান্তবর্তী উপজেলা হিসাবে বিশ্বম্ভরপুরের রয়েছে সবিশেষ গুরুত্ব। চলতি নদী পাথর কুয়ারির একটি অংশ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অবস্থিত। ওখানে চাঁদাবাজি ও অবৈধ বোমা মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ বিনষ্ট করার প্রবণতা বিদ্যমান। প্রশাসনিক কর্মকর্তার অভাবে চলতি নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে না। ফলে অবৈধ বোমা মেশিনের ব্যবহার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে।
হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন দপ্তরে জনবল সংকটের বিষয়টি বহুল পরিচিত। এমন কোন দপ্তর নেই যেখানে পদ শূন্যতার তীব্রতা নেই। অর্ধেকের কম জনবল নিয়ে জেলার প্রশাসনিক কাঠামো ধুকে ধুকে চলছে। এখন শুরু হয়েছে খোদ শীর্ষ প্রশাসনিক দপ্তরের পদশূন্যতা। সুনামগঞ্জবাসী নিজেদের চরম অবহেলিত মনে করছেন। সরকারি সেবা কার্যক্রম চালানোর জন্য অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মচারী না থাকলে জনগণের সেবাপ্রাপ্তি ঘটে না, এটি চিরসত্য। দেশের একটি উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা জনপদের প্রতি এমন প্রশাসনিক বৈষম্য জেলার প্রতিটি নাগরিককে ব্যথিত করে তুলেছে। অচিরেই এই বঞ্চনার অবসান ঘটানো না হলে মানুষের নেতিবাচক মনোভাবের নানামুখী প্রকাশ ঘটতে থাকবে। আর উন্নয়নে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তো অবধারিতভাবেই কপালের লিখন হিসাবেই থেকে যাবে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার প্রেক্ষাপটে আমরে যেমন ওইসব পদে জরুরি পদায়ন কামনা করি তেমনি অপরাপর দপ্তরগুলোর জনবল সংকট মোচনের জন্যও সমান তৎপরতার প্রত্যাশা করি।