সু.খবর ডেস্ক
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার সকাল ১১টার দিকে এ রায় দেন ঢাকার ২নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম। রায়ে আদালত বলেছেন, আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা হাইকোটের্র অনুমোদন সাপক্ষে গুলি করে মৃত্যুদ- কার্যকর করা যাবে।
এছাড়া কোটালীপাড়ার ওই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা অপর মামলায় ১০ আসামিকে ২০ বছর করে কারাদ- ও এক জনকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেন- ওয়াশিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন, মো. রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, মো. ইউসুফ ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলান শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বক্কর, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই এবং মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার প্যান্ডেল তৈরির সময় একটি শক্তিশালী বোমা পাওয়া যায়। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ৭৬ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করে। পরদিন ৪০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন দুটি মামলা করেন।
২০০১ সালের ৮ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সি আতিকুর রহমান হত্যাচেষ্টা মামলায় গোপালগঞ্জ
আদালতে মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১০ সালে মামলাটি ঢাকার ২নং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুালে স্থানান্তর করা হয়। হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে করা দুই মামলার চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে অন্য একটি মামলায়। এ কারণে তার নাম এ মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৪ আসামির মধ্যে ১২ জন কারাগারে এবং ১২ জন পলাতক।
১৭ বছর আগে দায়ের করা এ দুটি মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মো. মহিবুল্লাহ, মুন্সি ইব্রাহিম, মাহমুদ আজহার, রাশেদ ড্রাইভার, শাহ নেওয়াজ, মো. ইউসুফ, মো. লোকমান, শেখ মো. এনামুল ও মিজানুর রহমান। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরে বোমা পাওয়ার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে করা অপর মামলার রায় ঘোষণার জন্য একই দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।