- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শেষ মুহূর্তে টাকা ছড়ানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা পরিষদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিয়ে বলা হচ্ছে- ‘সুযোগ পেলে ভোট দিয়ে মোবাইলে ব্যালট পেপারের ছবি তুলে আনবেন’। কোন কোন ভোটারদের বলা হচ্ছে-‘পছন্দের দুই সদস্যকে ভোট দিয়ে ব্যালট পেপার আপনার সঙ্গে যে ইউপি সদস্য থাকবেন, তাকে দিয়ে দেবেন। আবার কাউকে কাউকে বলা হচ্ছে,‘আপনি ভোট কেন্দ্রে না গেলেও আমরা খুশি’।
প্রতিদ্বন্দ্বি দুই শক্তিশালী প্রার্থী ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও নুরুল হুদা মুকুট পরস্পরের বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ ওঠিয়েছেন।
জেলার জগন্নাথপুরের একজন ইউপি সদস্য নিজের নাম না ছাপার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্যকে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী সুনামগঞ্জে দাওয়াত দিয়ে এনে প্রথমে সকলকে নিয়ে কথা বলেছেন, পরে একজন একজন করে আলাদা কক্ষে নিয়ে কথা বলেছেন।’ এভাবে ডেকে নিয়ে কোন কোন প্রতিনিধিকে অর্থ দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করেন ঐ ইউপি সদস্য।
একইভাবে মধ্যনগরের একজন ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, তাঁদের কয়েকজনকে সুনামগঞ্জে খবর দিয়ে নিয়ে একটি হোটেলে আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঘনিষ্টজন ঐ হোটেলে আলাদা-আলাদা কক্ষে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই বিষয়টিকে অনেকে সন্দেহ করতেই পারেন।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রবীন্দ্র কুমার দাস বলেন, ‘বাসায় খবর       দিয়ে নিয়ে একজন একজন করে আলাদা কক্ষে নেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থা গত কয়েক দিন ধরেই চলছে। ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে আনার কথাও বলা হচ্ছে বলে শুনেছি।’
জামালগঞ্জের সাচনাবাজারের রাজনীতিক অর্ধেন্দু ঘোষ চৌধুরী সঞ্জু বলেন,‘কোন কোন জনপ্রতিনিধিকে বলা হচ্ছে শুনেছি, আপনি ভোট দেবার কথা বলেছেন, আমরা তাতেই খুশি। আপনি কেন্দ্রে না গেলেও কোন সমস্যা নেই’।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট দুজনেই একে অপরের বিরুদ্ধে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তুললেন।
ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন বলেন,‘কালো টাকা এবং দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের রাজনীতিকে যারা দীর্ঘদিন কলুষিত করে রেখেছিল তারা নানা কৌশলে টাকা ছড়িয়ে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভোট আদায়ের অপচেষ্টা করছে। জনপ্রতিনিধিরা তাদের এমন কৌশলকে প্রত্যাখ্যান করে ২৮ ডিসেম্বর আমার ‘চশমা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে সকল অপকর্মের জবাব দেবেন ইনশাল্লাহ্’।
নুরুল হুদা মুকুট বলেন,‘ব্যারিস্টার ইমন টাকা ছড়াচ্ছেন। সংসদ সদস্যগণ আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সংসদ সদস্যরা কোন কোন জনপ্রতিনিধিকে হুমকি দিয়ে বলছেন, ব্যারিস্টার ইমনকে ভোট না দিলে কোন প্রকল্পে নাম রাখা হবে না। আবার কাউকে কাউকে মামলার ভয়ও দেখানো হচ্ছে। এরপরও জনপ্রতিনিধিরা আমার ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকেই ভোট দেবেন ইনশাল্লাহ্’।
জেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন,‘ভোট কক্ষে কোন ভোটারকে মোবাইল বা ছবি তোলার মতো কোন কিছুই নিতে দেওয়া হবে না। আর ভোটারদের ভোট দেওয়া নিজ নিজ ব্যালট পেপার নিজেদেরই বাক্সে ঢুকাতে হবে’।
সুনামগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। অন্য দুজন হলেন লন্ডন প্রবাসী আহবাব হোসেন চৌধুরী ও চঞ্চলা দাশ। এ ছাড়া সাধারণ সদস্যপদে ৭৬ জন এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ২০ জন প্রার্থী আছেন। জেলায় মোট ভোটার এক হাজার ২১৫ জন। ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। এরপর ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেলে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এরপর তাঁকে আবার জেলা পরিষদের প্রশাসক করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক হন। এ দিন শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি।

  • [১]