ছাতক প্রতিনিধি
অনিয়মের কারণে আটকে থাকা ছাতকের শ্যামপাড়া—কান্দিগাঁও সড়কের সংস্কার কাজ অবশেষে শুরু করা হয়েছে। সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের চেষ্টা করায় কাজের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। রবিবার সকালে এলাকাবাসীর কঠোর নজরদারীর মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিতে সড়কের ঢালাই কাজ শুরু করা হয়।
কাজের নির্দেশনা অনুযায়ী, আরসিসি সড়কের সংস্কার কাজে প্রতি ৭ ইঞ্চি পরপর রড এবং ৮ ইঞ্চি ঢালাই দিয়ে কাজ করার কথা থাকলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুস ছালাম নয়—ছয় করে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী কাজ বন্ধ রাখার পক্ষে একাট্টা হয়ে পড়েন। অবশেষে এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে কাজ করার প্রতিশ্রম্নতি দিলে ঢালাই কাজ শুরু করা হয়।
সকালে ঢালাই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আওয়ামীলীগ নেতা রঞ্জন কুমার দাস। এসময় উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের পরিমল দাস, স্থানীয় জাহেদুল ইসলাম আহবাব, ইউপি সদস্য সমরুজ আলী, সাবেক ইউপি সদস্য আতাউর রহমান, আব্দুল গফুর, স্থানীয় আসাদুজ্জামান, আবু সুফিয়ান, নুরুল ইসলাম, সাবজান মিয়া, উজ্জল সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মোনাজাত করেন মুহিবুর রহমান সাফরুল।
উল্লেখ্য বিগত বন্যায় শ্যামপাড়া—কান্দিগাঁও সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে গত বছরের ডিসেম্বরে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দরপত্র আহবান করা হলে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৬৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বেলাল এন্টারপ্রাইজ নামক এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। শ্যামপাড়া—কান্দিগাঁও সড়কের ১ হাজার ৮০০ কাজ শুরু থেকেই ঠিকাদার আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা। তার অনিয়মের বিষয়ে ইউপি সদস্য দুলাল সরকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও দেন।