- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শ্যামারচর গণহত্যা- তদন্ত শুরু- ১৫ যুদ্ধাপরাধীর নাম তদন্ত সংস্থাকে বলেছেন স্থানীয়রা

বিশেষ প্রতিনিধি
১৯৭১’এর মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত পেরুয়া-শ্যামারচর হত্যাযজ্ঞে জড়িত অপরাধিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত মঙ্গলবার থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূর হোসেনের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের তদন্তদল এই কাজ শুরু করেছেন। আগামী শনিবার পর্যন্ত এই এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করবে এই তদন্তকারী দল।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে সুনামগঞ্জ জেলায় পাকহায়েনা ও তাদের সহযোগী বাঙালি দালালরা যে কয়েকটি বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করেছিল, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল দিরাই উপজেলার পেরুয়া শ্যামারচর হত্যাযজ্ঞ। এখানে ২০ জন নিরীহ বাঙালি গণহত্যার শিকার হন। কয়েক’শ ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার হন অসংখ্য মা-বোনেরা। এই এলাকার দুইজন বীরঙ্গনা এখনো জীবিত রয়েছেন বলে দাবি রয়েছে স্থানীয় বিশিষ্টজনদের।
এই ধংসযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবার হিসাবে পরিচিত ‘পেরুয়া বড়বাড়ি’। পেরুয়া বড়বাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দেওয়া হয়েছিল। এই বাড়ির হেমচন্দ্র রায় এবং চিত্তরঞ্জন রায় গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। এই গণহত্যা এবং পৈশাচিক নির্যাতনের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী কয়েকজন এখনো জীবিত রয়েছেন। কিন্তু পাক হায়েনাদের দোসরেরা এখনো জীবিত এবং প্রভাবশালী হওয়ায় মুখ খুলতে সাহস পান না তারা। কেউ কেউ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকারি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রভাব পাকিস্তান সময়কালের মতো এখনো রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নূর হোসেন বলেন,‘শ্যামারচরের গণহত্যার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে দিরাই ও শাল্লা থানা পুলিশের সহযোগিতায় আমরা তদন্ত শুরু করেছি, ইতিমধ্যে আমরা এখানকার দৌলতপুর, পেরুয়া ও উজানগাঁওয়ের শতাধিক প্রত্যক্ষদর্শীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সহায়তা করেছেন আমাদের। জিজ্ঞাসাবাদে গণহত্যা, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের স্বাক্ষী প্রমাণ মিলেছে’। তিনি জানান, পাক হায়েনাদের সহায়তাকারী ১০-১২ জনের নাম পরিচয় ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীরা বলেছেন, আরো দুইদিন অবস্থান করে যাচাই শেষে ট্রাইব্যুনালে রিপোর্ট জমা দেবেন তারা। তদন্তের স্বার্থে যুদ্ধাপরাধীদের নাম পরিচয় এখন প্রকাশ করা যাবে না বলে জানান এই কর্মকর্তা।
হায়েনাদের নির্যাতনের শিকার পেরুয়া-শ্যামারচরের এক বাসিন্দা জানান, শ্যামারচরের মৃত ছমির মিয়ার ছেলে আব্দুল হাসেম, রুস্তুম আলী মাস্টার, দৌলতপুরের মৃত মো. খালেক মিয়া, মুকিত মিয়া, লাল মিয়া, উজানগাঁওয়ের মৃত এলেম উদ্দিন মাস্টার, মৃত আনছার মৌলভী, মধু কারীর ছেলে মুকতাদির, মতু মিয়া, দৌলতপুরের জুনেদ মনির প্রদীপ, সুলতানপুরের জাকির হোসেন, সিরাজ মিয়াসহ অনেক অপরাধির নাম তদন্ত সংস্থার কাছে বলেছেন তারা। এরা নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় কীভাবে হায়েনাদারদের সহযোগিতা করেছে এসব জানিয়েছেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী আরেকজন স্বাক্ষ্যদানকারী বলেন, ভয়ে কারো কারো (অনেক অপরাধীর) নাম তারা বলেননি, তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা চেষ্টা করলে এসব নামও জানতে পারবেন।
শ্যামারচরের বাসিন্দা অমর চাঁন দাস বলেন,‘যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তদন্তকালী দলকে আমরা সহায়তা করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের কারো নাম এভাবে মুঠোফোনে বলা যাবে না। আমরা তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছি এখানে ২০ জন নিরীহ গ্রামবাসী হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে, শত শত বাড়ি জ্বালানো হয়েছে, মা বোনকে নির্যাতন করা হয়েছে। ২ জন বীরঙ্গনা এখনো জীবিত আছেন, তবে তারা কথা বলতে চাচ্ছেন না’।

  • [১]