- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

শ্রমিকের মাটি মেশিনে কাটে

এনামুল হক, ধর্মপাশা
দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির ৪০ দিনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে তাদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে। কাগজে কলমে শ্রমিকদের নাম ব্যবহারও করা হচ্ছে। তবুও শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে নিজে সুবিধা নিতে এক ইউপি চেয়ারম্যান ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি শ্রমিকদের প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে এক্সক্যাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) মেশিন ব্যবহার করছেন। এমন কাজের সাথে সম্পৃক্ত ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার গত ২৪ ডিসেম্বর তাঁর ফেসবুক ওয়ালে চলমান প্রকল্পের কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন। এর একটি ছবিতে দেখা যায় এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে সড়কে মাটি তোলা হচ্ছে। বরাদ্দকৃত টাকা মেশিনের পেছনে ব্যয়ের কারণে শ্রমিকদের আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মধ্যনগর ইউনিয়নে কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় চারটি প্রকল্পের বিপরীতে ১০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ৪নং ওয়ার্ডে মধ্যনগর-ধর্মপাশা সড়ক হতে গলইখালী গ্রামের সুজিত সরকারের বাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ৫নং ওয়ার্ডে ইনাতনগর ফালিয়ার হাওরের মাঝখানে গোপাট মেরামত ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৬নং ওয়ার্ডে কলুমা গ্রাম থেকে কুমুরিয়া বিল পর্যন্ত গোপাট মেরামত ২ লাখ ও ৮নং ওয়ার্ডে গলহা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার বাড়ি থেকে গলহা বাজার পর্যন্ত সড়ক মেরামতের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি প্রকল্পেই শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সক্যাভেটর মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। গত সোমবার বিকেলে মধ্যনগর-ধর্মপাশা সড়ক হতে গলইখালী গ্রামের সুজিত সরকারের বাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করে এক্সক্যাভেটর মেশিন ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে।
মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। গলইখালীর প্রকল্পে পুকুরের মতো একটি জায়গা থাকার কারণে শ্রমিকেরা সেখান থেকে মাটি তুলতে পারছিল না। তাই এক্সক্যাভেটর মেশিন দিয়ে ঘন্টাখানেক মাটি তোলা হয়েছে।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণে, তাই কর্মস্থলের বাইরে রয়েছি। বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘কর্মসৃজন কর্মসূচিতে শ্রমিকের পরিবর্তে মেশিন দিয়ে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হয়ে থাকলেও প্রকল্পের অধীনস্থ শ্রমিকদেরকেই বিল দেওয়া হবে।’

  • [১]