বিন্দু তালুকদার
আজ মহান মে দিবস। এ দিবসটি হচ্ছে পৃথিবীর শ্রমজীবী মানুষের বিজয় দিবস। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিবস এটি।
তবে বাস্তব হলেও সত্য মে দিবস কবে আসে কবে চলে যায় তা জানেন না হাওর পাড়ের কৃষিশ্রমিকরা। শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা কাজ করার নিয়মের বিষয়টি মোটেও অবগত নন তারা। দিনের শুরু সুর্য উদয় থেকে শুরু করে সন্ধ্যার সুর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করেন হাওরের কৃষিশ্রমিকরা।
আজ মে দিবস, দিবসটিকে মহান দিবস বলা হলেও এর কোন তাৎপর্যই জানেন না তারা। এইদিনে বিশেষ ছুটি উপভোগ করার নিয়ম থাকলেও হাওরে এই নিয়ম মানা হয় না যুগ যুগ ধরে।
অনেক কৃষিশ্রমিক জানিয়েছেন, তারা দিনটি সম্পর্কে মোটেও অবগত নন। এই আইন জানলেও কোন লাভ হবে না তাদের। হাওর পাড়ে এই আইন কাজে আসবে না। কারণ একদিন কাজ না করলে লোকসান হবে অনেক। গৃহস্থ বা কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন অনেক।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম মাসুদের মোবাইল ফোনে গ্রামের শ্রমিক মীর কাশেমের সাথে মে দিবসের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন,‘ ভাই খুব ঝামেলাত আছি। হাওরের বান ভাইঙ্গা গেছে। ধান তলই যাইতাছে। কাউলকা (রবিবার) ইতা কিতা দিবস জানি না। জীবনও ইতা হুনছি না, করছিও না। আমরা পরতি দিনই কাম করি। হাওরও কাম না করলে ভাত নাই।’
দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া এলাকার কৃষিশ্রমিক সুলতান আহমদ বলেন,‘ভাই ইতা দিবস টিবস আমরা জানি না। ইতা জাইন্না আমরার কোন লাভ নাই। দিবস টিবস পালন করত টাউনের প্যান্ট পউররা কামলারা। আইন-টাইন ও যত্ত নিয়ম তারার লাগি। তারা কাম করে ঘণ্টা হিসাবে, আমরা কাম করি দিন হিসাবে। সুরুজ উঠলে খেতও যাই, হাইঞ্জা অইলে বাড়িত আই, ইডাই আমরার হাওরের নিয়ম।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দেকার হাওরের পাড় পাগলা এলাকার শ্রমিক বাবুল মিয়া বলেন,‘ মে দিবস সম্পর্কে বেশী জানি না। তবে ওই দিন আমার ন্যায্য অধিকার আদায়ের লাগি অনেক কামলা নাকি সংগ্রাম করছিল ও অনেক মানুষ মারা গেছিল। এর পর থাইক্কাই মে মাসের পয়লা দিন মে দিবস পালন করইন শ্রমিক নেতারা। আমরা যারা গরিব শ্রমিক আছি। দিবস পালন করলে আমরার একটা দিনই লছ।’
জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হরিনাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন,‘ আমাদের হাওর এলাকায় শ্রম আইন সম্পর্কে কোন ধারণা নেই শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয় তাও জানেন না কেউ। যতক্ষণ সুর্য থাকে ততক্ষণই হাওরে কাজ করেন শ্রমিকরা। মে দিবস কবে তাও তারা জানে না। জেনেও কোন লাভ নেই, কারণ একদিন কাজ না করলে গৃহস্থের ও শ্রমিকদের অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।’