ইয়াকব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষকরা চরম কৃষি শ্রমিক সংকটে পড়েছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কৃষি জমিতে কাজ করার জন্য যে পরিমাণ শ্রমিক থাকার কথা সে পরিমাণ শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন সাধারণ কৃষকেরা।
উপজেলার হাওরপাড়ের সাধারণ কৃষকরা নিজের জমি চাষের পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত মৌসুমে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বর্গা চাষীরা ঋণের দায় মাথায় নিয়ে এলাকা ছেড়ে শহরমুখী হয়ে যাওয়ায় এমন শ্রমিক সংকট পড়েছে বলে মনে করছেন অনেক কৃষক।
তাই শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, শ্রমিক পাওয়া গেলেও বছরের তুলনায় মজুরির পরিমাণ বেশি। এছাড়াও হাওরের পানি এখনো নিষ্কাশন না হওয়ায় হাঁটু জলের মাঝেও কাজ শুরু করেছেন
অনেক কৃষক।
কষকরা বলেন, অতি বৃষ্টি, বন্যা, পাহাড়ি ঢল আর বাঁধ দুর্নীতির কারণে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন নিঃস্ব প্রায়।
এবছরও শ্রমিক সংকটের কারণে ধানের চারা রোপন করতে দেরি হচ্ছে এবং তুলনামূলক খরচও বেশি পড়ছে। এছাড়াও হাওরের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতো পানি মাড়িয়ে জমিতে কাজ করতে অনেক শ্রমিক অনীহাও দেখাচ্ছে । এ অবস্থায় চরম কৃষি শ্রমিক সংকটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সাধারণ কৃষকরা।
উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের একজন সাধারণ কৃষক আশিক মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরই জমি চাষ করি। প্রত্যেক বছরই চাষের সময় শ্রমিক সংকট হয়, তবে এবছর বেশি। এখনো হাওরে কাজের ধুম লাগেনি। এখনই যদি আড়াইশ টাকা দিয়ে শ্রমিক নিতে হয় মাঘ মাসে তো তিনশ টাকায়ও শ্রমিক পাওয়া যাবে না। তা ছাড়া এখনো হাওরের পানি নামছে না। এ নিয়ে মনে একটা আশংকা কাজ করছে।’
পশ্চিম পাগলার দেলোয়ার হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, ‘আমি মাত্র এক একর জমি চাষ করব বলে মনস্থির করেছি। যে হারে শ্রমিক সংকট দেখছি তাতে আগাম টাকা দিয়ে শ্রমিক বুকিং দিতে হয়। বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক নিতে হয়। তা ছাড়া বেশির ভাগ শ্রমিক ঢাকা কিংবা সিলেটে চলে গেছে।’
আস্তমা গ্রামের আঙ্গুর মিয়া বলেন,‘হাওর থেকে পানি নামছে না। কৃষকরা কাজ করতে কষ্ট হয়। আড়াইশ টাকার শ্রমিক ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা বেশি দিয়ে কাজে নিতে হয়। এতে চাষে বেশি খরচ পড়বে। শ্রমিকও পাওয়া যায় না।