আমিনুল ইসলাম,তাহিরপুর
ভর্তুকির কম্বাইন্ড হারভেস্টারে ধান কাটায় হাওরে এখন আর শ্রমিক সংকট নেই। কম্বাইন্ড হারভেস্টার হাওরপাড়ের কৃষকদের ধান কাটায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত উপজেলায় শতকরা ৭৫ ভাগ ভর্তুকিতে উপজেলায় মোট ৭৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। যে কম্বাইন্ড হারভেস্টারের মাধ্যমে কৃষক একইসাথে ধান কর্তন, মারাই ঝাড়াই ও বস্তা ভর্তি করতে পারছেন। যে কারণে হাওরে আর শ্রমিক সংকট থাকছে না।
শনির হাওরপাড়ের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, ৬/৭ বছর আগেও হাওরে ধান রোপনের কাজ শেষ করেই ধান কাটা শ্রমিক যোগানোর জন্য পাশর্^বর্তী জেলাগুলোর বিভিন্ন উপজেলাতে যেতে হতো। এমনকি তাদের অগ্রিম টাকা ও থাকার জন্য হাওরে গোয়ালা (থাকার ঘর) বেঁধে দিতে হতো কৃষকদের নিজ খরচে।
বর্ধিত গুরমা হাওরপাড়ের হুকুমপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, বাপ দাদার আমল থেকেই হাওরের ধান শ্রমিক দিয়ে কাটানো হতো। তাও শ্রমিক মিলাতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরতে হতো। এখন সরকারের ভর্তুকিতে ধান কাটার কম্বাইন্ড মেশিন পাওয়ায় সহজেই ধানগোলাতে উঠাতে পারি। ধান কাটার শ্রমিক যোগানোর জন্য আর কোথাও যেতে হয় না
মাটিয়ার হাওরপাড়ের বড়দল গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক সময় শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার পর ধানের খলায় ঝাক (স্তুপীকরন) দিয়ে রাখতে হতো। টানা বৃষ্টিপাত হলে এ সমস্ত ঝাকের ধান মাড়াই করা সম্ভব হতো না। এ পর্যায়ে ধানে চারা গজিয়ে যেতো। কালের বিবর্তনে কৃষকের এখন ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে।
জিনারিয়া হাওরপাড়ের পাঠাবুকা কৃষক আইনাল হক বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে এক সময় কৃষকগণ উপজেলা প্রশাসনের স্মরণাপন্ন হতো। তখন উপজেলা প্রশাসন উপজেলার যাদুকাটা বালু মহাল ও বড়ছড়া-চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের মালামাল পরিবহনের কাজ বন্ধ করে দিতো। ওই দুই কয়লা ও বালুমহালের প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান হাওরে ধান কাটায় এসে যোগ দিতেন। এখন কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন থাকায় হাওরে আর শ্রমিক সংকট নেই।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান-উদ-দৌলা বলেন, তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরগুলোতে ৭৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে কৃষক একইসাথে ধান কর্তন, মারাই ঝাড়াই ও বস্তা ভর্তি করতে পারছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুপ্রভাত চাকমা বলেন, এখন স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। কৃষকরা এখন আগাম আবহাওয়া বার্তা পাচ্ছে। বিশেষ করে শতকরা ৭৫ ভাগ ভর্তুকির কম্বাইন্ড হারভেস্টার কৃষকরা পাওয়ার কারণে হাওরে আর শ্রমিক সংকট নেই। তাছাড়াও বাইরের জেলাগুলো থেকেও ধান কাটার জন্য কম্বাইন্ড হারভেস্টার এসেছে বলে তিনি জানান।