পঙ্কজ কান্তি দে
২০১২ সালের ৩০ জুলাই দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ এর শুরুর দিনটি শুধু আকাশছোঁয়ার স্বপ্নবিলাস কিংবা কল্পনাকুসুমে পল্লবিত ছিল না, ছিল দীপ্ত অঙ্গীকারে উজ্জ্বল। জন্ম থেকেই ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ মানুষের কাছাকাছি থেকে দুরন্ত সাহসে সকল বাধা অগ্রাহ্য করে গণমানুষের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম। সে কখনো করে না বঞ্চনা’ ধারণ করে প্রতিদিনই অবতীর্ণ হয়েছে অঙ্গীকার পালনের অগ্নিপরীক্ষায়। এক, দুই করে ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ আজ অতিক্রম করেছে পাঁচ বছর।
পাঁচ বছরের এই পথচলায় পাঠকরা আমাদের জন্য প্রেরণার দীপশিখা জ্বালিয়ে রেখেছেন। আমরা তাদের সকলের কাছেই গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
সময়ের দাবির প্রতি বিশ্বস্ত থেকে সংবাদপত্র প্রকাশে শুভানুধ্যায়িরা যে সুপরামর্শ দেন, তা স্মরণে রেখে ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ নানা অনুষঙ্গে পাঠকপ্রিয় করতে আমরা চেষ্টা করেছি। হয়তো আমরা তাদের বিশাল প্রত্যাশা সম্পূর্ণ পরিপূর্ণ করতে পারিনি। তবে ব্যর্থতার গ্লœানিটুকু অকপটে বলব, কঠিনতম বৈরী বাস্তবতার মধ্যেও অঙ্গীকার পূরণে আমরা একনিষ্ঠ ও আন্তরিক ছিলাম।
কবিগুরু গভীর দার্শনিক জিজ্ঞাসায় লিখেছিলেন, ‘পথের শেষ কোথায়? কী আছে শেষে ?../ জন্মদিনে হতাশা কিংবা নিরাশার অশ্রুসজল কথা শোনাতে না চাইলেও আমাদের প্রিয় সুনামগঞ্জ জেলাকে নিয়ে সকলের সঙ্গে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার দৃশ্য ভুলে থাকা সম্ভব নয়। গত এপ্রিল থেকে বেশ কয়েকটি মাস ছিল বেদনাদায়ক ও দীর্ঘশ্বাসপীড়িত ভীষণ দুঃসময়। জেলার বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বিগ্ন। অনাকাক্সিক্ষত, অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটলে তার জন্য কে বা কারা দায়ী হবেন তা মুখ্য নয়। পরিণাম শুধু ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সমাজকেই স্পর্শ করবে না, জেলাবাসীর জন্যও বিপদ ডেকে এনেছে। তবু আমরা প্রত্যাশা করি, দুঃসময় অতিক্রম করে আঁধার চেরা রোদের মনোরম আলো ফুটে উঠবে।
দীর্ঘ সময় একনাগাড়ে একই নীতিতে থেকে একটি সংবাদপত্র পরিচালনা করা কোনো সহজ কাজ নয়। মোটেই মসৃণ ছিল না সেই পথ। বিজ্ঞাপনের পরিমাণ খুবই কম। পত্রিকা দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সরকারি বিজ্ঞাপনের কমমূল্য ও বিলপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতাসহ বেসরকারি বিজ্ঞাপনের উৎস খুবই কম। মূল ভরসা শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন যা বিজ্ঞাপনদাতার বদান্যতার উপর নির্ভরশীল। এজন্য সুনামগঞ্জের মতো অনুন্নত জেলা শহরে দৈনিক পত্রিকার নিয়মিত প্রকাশনা টিকিয়ে রাখা খুবই কঠিন। সাম্প্রতিক সময়ে পত্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধি আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কেও নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে। তবে এক কথায় বলা যায়, সবশেষে দক্ষতা এবং যোগ্যতাই এদের টিকে থাকার নির্ধারক হবে। কাজেই এই সংখ্যাধিক্য সম্পর্কে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কারণ দেখি না।
‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ নিজেকে নিরন্তর পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করে; নতুনের সংযোজনে পৌনঃপুনিকতার একঘেয়েমির হাত থেকে পাঠককে পরিত্রাণ দিতে চায়। সচেতন পাঠকরা হয়তো আজ থেকে লক্ষ্য করবেন খবরের লগো তে পরির্বতন সূচিত হয়েছে। সৃজনশীল এই পরির্বতনের ধারা সূচিত হয়েছে সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান প্রখ্যাত প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ’র হাতে।
উপজেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা সুনামগঞ্জের খবরের প্রাণ। সকলেই কর্তব্যনিষ্ঠ এবং একই সঙ্গে সংবাদ-ঘনিষ্ঠ। তাদের লেখায় উপজেলার জীবন বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠে। ‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’ সাংবাদিকতার নৈতিক মেরুদ- সোজা রেখেছে এবং পত্রিকাটির সংবাদকর্মীরা তাদের পেশার সুনাম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখেছেন। তাই আজ পত্রিকাটি সুনামের সঙ্গে ছয় বছরে পা দিতে পেরেছে, এটা আমাদের জেলাবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়। এই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের ২৫ টি আঞ্চলিক দৈনিককে ‘স্টার ওনার্স পদক’ প্রদান করে, এর মধ্যে সিলেট অঞ্চলে কেবল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর-ই এই সম্মান অর্জন করতে পেরেছে। এটিও পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সকলের সাফল্যের সম্মাননা।
আমাদের যাত্রাপথে পাশে থাকার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আমাদের অগণিত পাঠক, শুভার্থী, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার, এজেন্টদের প্রতি। প্রত্যাশা রাখি বর্ষপূর্তি বা বর্ষশুরুসংখ্যা আবার শ্রাবণ মেঘের মতো ফিরে আসবে সফলতার সজল আমেজ নিয়ে পাঠকের কাছে।