- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সংকটাপন্ন তাহিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এক মাস ধরে বন্ধ পানি সরবরাহ

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। ২৫ জুলাই থেকে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা নিজে নলকূপ চেপে পানি সংগ্রহ করছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্গন্ধের কারণে নাক চেপে ধরে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে।  উপজেলার প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের জন্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে। ফলে উপজেলাবাসী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
১৯৭৮ সালে তাহিরপুর উপজেলা সদরে মোট ১০ একর জমির ওপর ২১ শয্যাবিশিষ্ট এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হয়।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৫টি বিভাগ রয়েছে। এগুলো হলো স্বাস্থ্য পরিদর্শক শাখা, বহির্বিভাগ, অন্ত:বিভাগ, ল্যাবরেটরি ও স্টোর রুম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ১জন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা, ১ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ১ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), ১ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন), ১জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), ১জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেসিয়া), ১জন ডেন্টাল সার্জন ও ২জন মেডিকেল অফিসার সহ মোট ৯জন চিকিৎসক বরাদ্দ থাকলেও কাগজে কলমে যোগদান রয়েছেন মাত্র ৪ জন। কিন্তু বাস্তবে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। তিনি হলেন মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান। অপর ২জন মেডিকেল অফিসার ডা. মুরশেদ আলম ও ডা. মাহমুদুর রহমান এক বৎসর পূর্বে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালে অনুপস্থিত রয়েছেন।
অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন প্রতি ইংরেজী মাসের ৩০ অথবা ৩১ তারিখে এসে বেতন বিলে স্বাক্ষর করে নিজের বেতন ভাতা উঠিয়ে নিজ জেলা কুমিল্লায় চলে যান।
অপরদিকে একমাত্র নার্সিং সুপারভাইজার পদটি দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২জন। ,প্রধান সহকারীর একমাত্র পদটিও দীর্ঘ ৪ মাস ধরে শূন্য রয়েছে। ক্যাশিয়ার ও ভান্ডার রক্ষক দুটি পদের মধ্যে দুটিই খালি রয়েছে। ৩জন অফিস সহকারীর মধ্যে কর্মরত আছেন ২জন। মেডিক্যাল ট্যাকনোলজিষ্ট (ল্যাব) ২জন, (ফার্মা) ২জন, (ডেন্টাল) ১জন, (রেডিওগ্রাফী) ১জন, সহকারী সেবক ১জন, ড্রাইভার ১জন, জুনিয়র মেকানিক্স ১জন ,স্বাস্থ্য সহকারী ১০ জন সহ মোট ১৯টি পদই শূন্য রয়েছে।
অপরদিকে চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের মধ্যে ৩জন এএলএসএস, ১জন নিরাপত্তা প্রহরী, ২জন ওয়ার্ডবয়, ২জন আয়া, ১জন কুক/মশালচী, ৩জন ঝাড়–দার ও ১ জন গার্ডেনার সহ মোট ১৩টি পদই শূন্য রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল আমিন বলেন,‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা সাখাওয়াৎ হোসেনের স্বেচ্ছারিতার কারণে তাহিরপুর উপজেলার জনগণ স্বাস্থ্য সেবা নিতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন,‘হাসপাতালে আমি অনুপস্থিত থাকলেও চিকিৎসা সেবার কোন সমস্যা হয় না।’

  • [১]