স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ছাত্রলীগের দুদল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মামলা দায়েরের ঘটনার পর ক্ষোভ রয়েছে দুইপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে। জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম আসিফ বখ্ত রাদ শনিবার দাবি করেছেন, দ্বন্দ্বে জড়িতই দুজনই যুবদলের সক্রিয় কর্মী। ঘটনার মূল হোতা মো. মোশাহিদ রহমান কুটিকে ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করা হলেও সে প্রকৃতপক্ষে যুবদলের কর্মী দাবি করেন তিনি। সংঘর্ষে যুক্ত শামীম আহমদও যুবদলের কর্মী দাবি করেন আসিফ বখ্ত রাদ।
আসিফ বখ্ত রাদ এর দাবি মোশাহিদ রহমান কুটি যুবদলের সক্রিয় কর্মী। যুবদলের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ রয়েছে তার। জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী সংগঠনের কোন কর্মসূচিতে কুটি’র অংশগ্রহণ দেখাতে পারবেন না বলে দাবি করেন রাদ। রাদ এর দাবি গত কয়েকদিন হয় ছাত্রলীগের ওই দুই নেতার (রিপন ও রফিক) সঙ্গে কুটিকে আড্ডা দিতে দেখো গেছে। সংগঠনের কোন কর্মসূচিতে কখনোই পাওয়া যায় নি কুটিকে। যুবদলের একটি মিছিলের সামনে কুটির উপস্থিতির একটি ছবি এইচএম আসিফ বখ্ত রাদ অংশের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া শামীম আহমদ যুবদলের কমিটিতে ১২৫ নম্বর সদস্য উল্লেখ করা একটি প্যাডের পাতাও এই পক্ষের নেতা কর্মীরা সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবুল মুনসুর শওকত অবশ্য কুটি ও শামীম যুবদলের সদস্য নয় দাবি করে বলেছেন, যুবদলের কমিটির শামীম আহমদ মুক্তারপাড়ার শামীম আহমদ নয়।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, কোটি ১০ বছর হয় ছাত্রলীগের কর্মী, শামীমও ছাত্রলীগের কর্মী। এছাড়া কুটি জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। একই মন্তব্য করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার রাতে শহরের উকিলপাড়ার একটি কফি হাউসে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ৩ জন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এ ঘটনায় মো. মোশাহিদ রহমান কুটি বাদী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নোমান বখ্ত পলিনসহ ৫ জনকে বিবাদী করে মামলা করেছেন। পুলিশ মামলার এক নম্বর বিবাদী শহরের মুক্তারপাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে রাজ (২৭) কে গ্রেপ্তার করেছে। এই সংঘর্ষ ও মামলা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে শহরে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, এই ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। পরিস্থিতিও ভালো আছে।