- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সংস্কারের অভাবে শাল্লা সদরের অধিকাংশ রাস্তার বেহাল দশা

সুব্রত কুমার দাস (খোকন), শাল্লা
দীর্ঘদিন (বিগত ২৫-৩০ যাবৎ) সংস্কার না করায় শাল্লা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল রোডে ও গালর্স স্কুল রোডের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। রাস্তার ইটের সুড়কি উঠে গিয়ে রাস্তার ভিতরের রড বের হয়ে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়ক দিয়ে চলাফেরা করতে গিয়ে উপজেলা সদরের মানুষ সহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে আসা লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সরজমিনে দেখা গেছে হাসপাতাল রোড (হাই স্কুল মাকের্টের সামনের রাস্তা) ৫০০-৭০০ ফুট রাস্তার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। উক্ত স্থানের পিচের ঢালাই উঠে গিয়ে রাস্তার রড বের হয়ে পড়েছে এবং রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে রাস্তার ম্েযধ ৭টি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তা ব্যবহার করে প্রতিনিয়তই উপজেলা সদরের মানুষ আশেপাশের গ্রামের লোকজন ও অসুস্থ ব্যক্তিরা উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারী হাসপাতালে যাতায়াত করে। বিগত ৩/৪ বৎসর যাবৎ রাস্তাটির এই বেহাল দশা। এরপরও কর্তৃপক্ষ  
রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন না।  
শিক্ষক সূর্যলাল দাস ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিগত ৪/৫ দিন পূর্বে আমার অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে রাত্র ৮ ঘটিকায় এই রাস্তা দিয়ে ডাক্তারের নিকট যাওয়ার সময় অসাবধানতা বশত: নিজেই গর্তে পড়ে গিয়ে রডের ঘষায় পায়ের চামড়া ছিড়ে ফেলেছি। এটা থানা সদরের কোন রাস্তা হতে পারে ?
এছাড়াও গার্লস স্কুল রোডে গিয়ে দেখা যায় পিচের ঢালাই উঠে গিয়ে সমস্ত রাস্তায় ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার পাশে দুটি সরকারী প্রতিষ্ঠান। একটি দাখিল মাদ্রাসা ও অন্যটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত ছাত্র/ছাত্রী ও সদরে আসা লোকজন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি বিগত ৪/৫ বছর যাবৎ বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে, কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছে না।  
গোবিন্দ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সজল চন্দ্র সরকার বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াত করতে হয়। খুবই সাবধানে পা ফেলতে হয়, কখন জানি গর্তে হোছট খেয়ে পড়ে যাই। রাস্তাটি জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা যুবলীগ নেতা অজয় তালুকদার বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন এ দুটি সড়ক কেউ তদারক করছেন না। দ্রুততার সহিত টেন্ডারের মাধ্যমে রাস্তা দুটির সংস্কারের প্রয়োজন।  
উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, আমি নতুন এসেছি। রাস্তা দুটির ব্যাপারে খোঁজ নেব। আগামীতে বরাদ্দ আসলে রাস্তা দুটির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।  

  • [১]