- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সকল বই এখনও পায়নি শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার
জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখনও বই পায়নি শিক্ষার্থীরা। এই কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। অন্যান্য বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল শ্রেণীর বই সরবরাহ করা হতো। এবার ফেব্রুয়ারি এসেছে। কিন্তু অনেক শ্রেণীতে বই সরবরাহ নেই। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম বলেন, আমরা ক্লাশের মাত্র কয়েকটি বই পেয়েছি। অন্যান্য বই এখনও পাইনি। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মন খারাপ। বই না পাওয়ায় আরও বেশি মন খারাপ।
৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আরিফুল হক বলেন, বইও পাইনি। বিদ্যালয়ও বন্ধ। লেখাপড়া থেকে অবসর সময় পার করছি।
একই শ্রেণীর মাজেদা আক্তার বলেন, বই না পাওয়ায় বুঝা যায়, আমরা কোনো বিদ্যালয়ে লেখাপড়াই করছি না। শিক্ষায় সব দিকে পিছিয়ে পড়ছি।
শিক্ষার্থী অভিভাবক ফজলুল হক বলেন, বই নেই, স্কুল নেই, লেখাপড়ার মানসিকতা নেই। সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
সুনামগঞ্জ শহরের সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফয়েজুর রহমান বলেন, ৯ম শ্রেণীর কোনো বই পাইনি। অন্যান্য শ্রেণীর কিছু কিছু বই পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম রাসেল বলেন, ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত বই পেয়েছি। ৮ম শ্রেণীর অর্ধেক বই পেয়েছি। কিন্তু ৯ম শ্রেণীর কোনো বই পাইনি এখনও।
জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত কিছু বই পেয়েছি। বিভিন্ন শ্রেণীর বেশিরভাগ বই এখনও পাইনি।
তাহিরপুর উপজেলার চাঁনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ৯ম শ্রেণীর বই পাইনি। ৮ম, ৭ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর কিছু কিছু বই পেয়েছি। সময়মত বই না পাওয়ায় শিক্ষার্থীর লেখাপড়া নিয়ে অভিভাবকেরা দুশ্চিন্তায় আছেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কাটাখালী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ বলেন, এবার এখনও সব শ্রেণীর পুরো বই পাইনি। ৯ম শ্রেণীর কোনো বই পাইনি।
দিরাই উপজেলার দিরাই সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাফর ইকবাল বলেন, ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বই পেয়েছি এবং ৯ম শ্রেণীর কারিগরি শাখার বইও পেয়েছি। কিন্তু ৯ম শ্রেণীর অন্যান্য বই পাইনি।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার বই ধীরে ধীরে আসছে। বিভিন্ন উপজেলায় আলাদা আলাদাভাবে বই আসছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যে সকল উপজেলায় বই পৌঁছে যাবে।

  • [১]