স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটা বিষয় হচ্ছে যারা ছোটখাটো ব্যবসা বাণিজ্যে বা কোন কিছু করত, কিন্তু এখন কিছু করতে পারছে না তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর যারা অলরেডি ভিজিএফ, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা বা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও সুবিধা পাচ্ছে তাদের বাইরে যারা তাদের সাহায্য করতে হবে। ১০ টাকা কেজির চাল তো ওই শ্রেণির জন্য দেয়াই আছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুরো তৃণমূল পর্যায়ের জন্য ওয়ার্ড কমিটি তো করাই আছে। কিন্তু আমাদের যারা জনপ্রতিনিধি আছেন তাদের সহ সবাইকে নিয়ে আরেকটা কমিটি করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে তালিকা তৈরি করতে হবে। সবাই মিলে এই তালিকা এমনভাবে করতে হবে যাতে সঠিক লোকদের হাতে খাবারটা পৌঁছে। সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। এই সময় অনেকের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের খুঁজে বের করে একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। সুনির্দিষ্ট লোকের কাছে খাবার পৌঁছাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মত বিনিময়কালে একথা বলেন।
মঙ্গলবারচট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মত বিনিময় করেনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।
ভিডিও কনফারান্সের সুনামগঞ্জ পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, যেহেতু সুনামগঞ্জ জেলায় করোনা দেখা দেয়নি এবং প্রবাসী বেশী তাই এখানে তাই বাইরের লোকজনের আসা বন্ধ রাখতে হবে। করোনা যাতে দেখা না দেয় সেজন্য আগামী একটা মাস সাবধানে থাকতে হবে।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মানুষের দুর্ভোগের সময় যারা দুর্নীতি করবেন তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে ভিডিও কনফারান্সে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই করোনাভাইরাসের দুর্ভোগের সময় কিছু লোক ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন, সম্পদ তৈরি করার চেষ্টা করবেন, নয়ছয় করবেন তারা কিন্তু ধরা পড়ে যাবেন। তাদের এতটুকু ছাড় দেওয়া হবে না। খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় খাদ্য পৌঁছে দেওয়াসহ সকলকে স্বাস্থ্যবিধি ও হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মচারিগণ যাঁরা কোভিড-১৯ ব্যাপক সংক্রমণ রোধে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন আমি আপনাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ অবস্থার মধ্যেও আপনারা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলে এটা এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।
গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যা লয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
জেলা প্রশাসকের সম্মেনে কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সঞ্চালনায় এসময় দিরাই শালা আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা, সুনামগঞ্জ সিলেট সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন, সেনাবাহিনীর লে. কর্ণেল মাহমু্ব হাসান; পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।