- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সতীশচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতি মনোযোগী হোন

সরকারি সতীশচন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৪০ খ্রিস্টিয় সন আর জুবিলীর প্রতিষ্ঠাসন ১৮৮৫ খ্রি.। অর্থাৎ কিনা সতীশচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়টি বড়ভাই জুবিলীর ৫৫ বছরের ছোট এক বোন। বয়সে ছোট, তার পরেও এটি বালিকাদের বিদ্যালয়, এজন্যই বোধ করি এর বঞ্চনার মাত্রাও বেশি, অন্তত বড় ভাই জুবিলীর তুলনায়। গতকাল আমরা জুবিলীর সংকট নিয়ে সম্পাদকীয় স্তম্ভে কিছু তথ্য পরিবেশন করে মন্তব্য করেছিলাম। গতকালই আবার পত্রিকায় দ্বিতীয় প্রধান সংবাদ হয়েছে সতীশচন্দ্রের সংকট নিয়ে। তাই জুবিলী ও সতীশচন্দ্রের মধ্যে তুলনাটা চলে এলো, অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও। জুবিলী ও সতীশচন্দ্রের অনুমোদিত শিক্ষক সংখ্যা এক। অর্থাৎ ৫২ জন করে শিক্ষক থাকবার কথা উভয় বিদ্যালয়ে। জুবিলীতে আছেন ৩৬ জন। পক্ষান্তরে সতীশচন্দ্রে রয়েছেন ২৯ জন। অর্থাৎ জুবিলীর চাইতে সহোদরা সতীশচন্দ্রে ৭ জন শিক্ষক কম। অন্যদিকে জুবিলীর ছাত্র সংখ্যা ১৫৭৬ জন আর সতীশচন্দ্রের ছাত্রী সংখ্যা ১১৮৮ জন। যদিও শিক্ষার্থী সংখ্যা জুবিলীর বেশি কিন্তু শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে যেসব সুযোগ সুবিধা দরকার সেখানে দুই স্কুলের মধ্যে কোন তফাত নেই। এই পরিসংখ্যানটি সামনে রেখে কিছুৃটা হালকাচ্ছলে আমরা বঞ্চনার প্রসঙ্গটি টানলাম, একটি জেলা শহরের দুই প্রধান সরকারি বিদ্যায়তনের আসল অবস্থাটি জনসন্মুখে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে।  এ যেন দুই বঞ্চিতের মধ্যে কে বেশি বঞ্চিত তার কদর্য রূপ আবিস্কারের মত অবস্থা আর কি। আসলে জুবিলী আর সতীশচন্দ্র দুই বিদ্যালয়ই সীমাহীন সংকট মাথায় নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটা উচিৎ। একটি জেলা শহরের প্রধান দুই বিদ্যালয়কে যথাযথ মান ও পরিমাণে সামর্থবান না করে তুললে শিক্ষায় অগ্রসর ঘটানোর আকাক্সক্ষাটি বেলুনের মতোই চুপসে যাবে। আসলে আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে যে জাতীয়ভাবে পিছিয়ে আছি সেজন্য আমাদের মেধার ঘাটতি নয়, বরং সুযোগ-সুবিধার অভাবই যে বড় কারণ, সেটি এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট।
সতীশচন্দ্রের এক শিক্ষার্থী কষ্ট নিয়ে বিদ্যালয়ে বাথরুম ও পানীয় জলের টিউবওয়েল না থাকার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করলেন। তখন আমরা আশ্চর্য হই একটি বিদ্যালয় যেখানে হাজারের উপর ছাত্রী অধ্যয়নরত, সেখানে বাথরুম ও পানীয় জলের মতো অপরিহার্য দুই বস্তুর অভাব সুতীব্র। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে নিজেরাই এই দুই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তাঁরা ছাত্রীদের কাছ থেকে ভর্তির সময় বিদ্যালয়ের নানাবিধ উন্নয়নের নামে যে ফিস গ্রহণ করেন সেই তহবিল দিয়েই এই দুই সমস্যার সমাধান সম্ভব, অন্তত আমাদের তাই মনে হয়। কিন্তু সেটি তাঁরা না করে শিক্ষার্থীদের কষ্ট বাড়িয়ে চলেছেন। সরকার এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছেন। এর অনেকগুলো আবার বিদেশি সহায়তা নির্ভর। এসব কর্মসূচীর আওতায় বিদ্যালয়গুলোর স্যানিটেশন ও হাইজিন নিয়ে প্রচুর কাজ করা হয়। এসব কর্মসূচী থেকে সতীশচন্দ্রে কয়েকটি টিউবওয়েল ও বাথরুম স্থাপন করা যায় না কেন সেটিও আমাদের বোধের অগম্য।
সতীশচন্দ্রের শিক্ষক-কর্মচারী ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার যেসব অভাবের কথা সংবাদপত্রে প্রকাশ হলো সেগুলোর সমাধানে দায়িত্বশীলরা অনতিবিলম্বে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এই আমাদের প্রত্যাশা।

  • [১]