রোমেনা লেইস
কল্পনা তালুকদার
শিক্ষা জাতির মেরুদ-। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নত হতে পারে না। আজকে লিখব প্রফেসর কল্পনা তালুকদারকে নিয়ে । নিজের উন্নতি, পরিবারের উন্নতি, সমাজ তথা জাতির উন্নতির লক্ষ্যে নিজেকে তিনি পড়ার মধ্যে নিয়োজিত রেখেছেন। পড়াশুনা শেষ করে মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন।
কল্পনা তালুকদারের পিতা কালী কুমার তালুকদার ও মাতা সুযতœা তালুকদার। তাদের তিন পুত্র ও ছয় কন্যা সন্তান। কল্পনার জন্ম ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তিনি অত্যন্ত মেধাবী। ক্লাস থ্রী থেকে ডাবল প্রমোশন পেয়ে ফাইভে সতীশ চন্দ্র সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (এসসি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়) ভর্তি হন । তিনি এসসি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ এ এসএসসি পাশ করেন। এইচএসসি পাশ করেন ১৯৭৫ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে। উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাস্টার্স ও একই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
মাস্টার্স অধ্যয়নকালেই সোনালি ব্যাঙ্কে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে চাকুরি শুরু করেন। চাকুরিকাল ছিল দুই বছর। সপ্তম বিসিএস এর মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। কক্সবাজার সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসাবে শিক্ষকতা জীবনের শুরু ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৮ সালে। তাঁর স্বামী মহোতোষ সাহা একজন অবসর প্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা ।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ থেকে মার্চ ১৯৯২ পর্যন্ত। ৭ মার্চ ১৯৯২ থেকে ১৪ আগস্ট ২০০৮ পর্যন্ত রাজবাড়ি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ২০০১ সালে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে প্রথম পদোন্নতির পর সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে সংযুক্ত হন।
সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথেও তিনি জড়িত। পাশাপাশি মাঝে মধ্যে লেখালেখি ও করেন। তাঁর সবচেয়ে প্রিয় কাজ, যা অবসরে করতে ভালোবাসেন তা হলো মাটির মূর্তি বানানো। ১৯৯২ এর ফেব্রুয়ারিতে পাবলিক লাইব্রেরিতে একটা প্রদর্শনী করেছিলেন তিনি। তাঁর এক সহপাঠীর সাথে কথা বলে জানলাম তিনি ছবিও আঁকতেন।
কল্পনা তালুকদারের একমাত্র সন্তান মধুরিমা সাহাও সতীশ চন্দ্র সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছিল। বর্তমানে সিলেটের রাগিব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত। ২০১৩ সালের সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ভাষা ও সাহিত্য গ্রুপে দেশ সেরা মেধাবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সে।
শিক্ষা জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে স্কুলের শিক্ষা। জীবনে চলার পথে সকল মানবিক গুণাবলী অর্জনের পিছনে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের সতীশ চন্দ্র উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যথাযথ শিক্ষা দান, আর পারিবারিক শিক্ষা কল্পনা তালুকদারের জীবনকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। নিবেদিতপ্রাণ এই শিক্ষকের সুস্বাস্থ্য ও সুখী জীবন কামনা করি।