সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য্য
সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্য পেশার সাথে যুক্ত না হয়ে আমৃত্যু যিনি জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন- সুনামগঞ্জ শহর এলাকার প্রাক্তন সাংসদ প্রয়াত আব্দুজ জহুর ও প্রয়াত রহিমা জহুরের ছয় সন্তানের চার কন্যাই সরকারী সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে কেউ এইচ এস সি কেউবা স্নাতক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। এই চার সহোদরাকে নিয়ে আজকের আলোচনা। দৃষ্টিপাত করা যাক তাঁদের প্রতি।
(১) ফাতেমা চৌধুরী স্বপ্না :- এস এস সি ১৯৭৯, এইচ এস সি ১৯৮১ ও স্নাতক ১৯৮৩।
আমেরিকা প্রবাসী এই কন্যা একজন সফল গৃহিনী।
স্বামী ও একজন করে ছেলে মেয়ে নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। নিউইয়য়র্কের বিখ্যাত সেন্ট জোনস ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চ শিক্ষা শেষে বড় ছেলেটি চাকুরির পাশাপাশি চার্টার একাউন্টং (সি পি এ) পড়ছে এবং মেয়েটিও নিউইয়র্কের হান্টার কলেজে ২য় বর্ষে পড়ছে।
বিয়ের দুই বৎসরের মধ্যে প্রবাসী হওয়ার কারণে আত্মীয়-স্বজন বিশেষ করে বাবা-মা’র সাথে প্রথম মা হওয়ার আনন্দটা সশরীরে শেয়ার করা হয়নি। সন্তানকে নিয়ে প্রথম বাবা-মা’র সামনে হাজির হতে পারার সেই শুভক্ষণটি স্বপ্নার সুখস্মৃতিতে সুবর্ণ- স্বর্ণক্ষরে লিপিবদ্ধ অসাধারণ স্মৃতি।
পূর্ব পুরুষদের যুগ যুগ সাধনা ও ত্যাগের ফসল পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। মহান স্বাধীনতাকে ফলপ্রসূ ও অর্থবহ করতে প্রজন্মেকে হাল ধরতে হবে। তার পূর্বশর্ত হিসেবে নৈতিক স্খলন প্রতিহত, আইন শক্তিশালীকরণ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে। সংকীর্ণতা পরিহার করে মানবতায় বিশ্বাস রেখে আলোর পথে-আলোকের পথে দিশারী হয়ে স্ব-আলোতে আলোকিত করুক জাতি, দেশ ও বিশ্বভূবন – বর্তমান প্রজন্মের কােেছ তাঁর এমনই প্রত্যাশা।
(২) নাজমা বেগম :- এস এস সি ১৯৮৩, এইচ এস সি ১৯৮৬ ও স্নাতক ১৯৮৮।
তিনিও আমেরিকা প্রবাসী সফল গৃহিনী।
স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে সুখী পারিবারিক জীবনে বড় ছেলে বিখ্যাত নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স, একমাত্র মেয়ে ও ছোট ছেলে নিউইয়র্ক সিটির টপ হাইস্কুলে নাইন ও সেভেনে পড়ছে।
বিমানে চড়ে পাখির মত উড়াল দিয়ে বিশ্বের উন্নত দেশে গমনের সেই শুভদিনটিই নাজমার সুখস্মৃতি।
প্রজন্মের কাছে তিনি উচ্চশিক্ষার সাথে সাথে আত্মশিক্ষিত হওয়ার প্রত্যাশা রেখেছেন।
(৩) রীতা বেগম :- এস এস সি ১৯৮৩, এইচ এস সি ১৯৮৫ ও স্নাতক ১৯৮৭। সিলেট ল’কলেজ থেকে এল এল বি ১৯৯০ ও সনদ লাভ ১৯৯৯।
পেশায় আইনজীবী রীতা বেগম নোটিরি পাবলিক হিসেবেও দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে থাকেন।
পারিবারিক জীবনে স্বামী ও একজন করে ছেলে মেয়েকে নিয়ে সুনামগঞ্জে আছেন।
সুখস্মৃতি:- ৭ই অক্টোবর ১৯৯২। এই বিশেষ দিনটিতে আব্বার সাথে কোর্টে গিয়ে আইনজীবী হিসাবে সুনামগঞ্জ বারে যোগ দিযেছিলেন।
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে অঙ্গীকার করতে হবে। জঙ্গিবাদ যেন কোনভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে সতর্ক থেকে এগিয়ে চলুক বর্তমান প্রজন্ম -এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
(৪) সুলতানা রাজিয়া নীতা :- এস এস সি ১৯৮৮ ও এইচ এস সি ১৯৯০।
সুগৃহীনীর খ্যাতিতে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পারিবারিক জীবন যাপন করছেন। দুই মেয়ে সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজে স্নাতক অনার্স ২য় ও ১ম বর্ষে ও একমাত্র ছেলে জুবিলী স্কুলে ৯ম শ্রেণীতে পড়ছে।
সতীশের বালিকা বেলায় একদিন গণিত ক্লাসে দুষ্টামীর জন্য কল্যান স্যার কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকার শাস্তি দেন। এতেও হাসি থামছে না দেখে ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। শাস্তি পাওয়া কয়েকজন মিলে অট্টহাসির এক পর্যায়ে স্যার তাদের শাস্তি উঠিয়ে ক্লাসরুমে ফিরার অনুমতি দেন। স্কুল জীবনের সেই স্মৃতি মনে হলে আজও শিহরণ জাগে।
নৈতিক মূল্যবোধকে লালান করে দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবাসতে হবে- বর্তমান প্রজন্মের কাছে এ প্রত্যাশা রেখেছেন সুলতানা রাজিয়া নীতা।
বিভিন্নভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে প্রশান্তি নিয়ে এগিয়ে চলা সহোদরাদের জন্য থাকলো শুভকামনা।