- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি-আমাদের অহংকার (৫)

বিনম্র

সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য্য
‘আমাদের অহংকার’-এ যাঁকে নিয়ে আজ আলোচনা তিনি ব্যক্তিগত জীবনে খুবই পরিপাটি, হাসিখুশি, মিষ্টিমধুর কথোপকথনে অভ্যস্ত, শিষ্টাচারী এবং এই বিদ্যালয়েরই ছাত্রী, অনেক আগেই প্রিয়জনদের নয়নজলে ভাসিয়ে পরপারে চিরস্থায়ী পাড়ি জমিয়েছেন বটে কিন্তু অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ছাত্রীদের মনের মন্দিরে চিরজীবীরূপে বেঁচে আছেন – তিনি আমাদের সবার প্রিয় দিদি প্রয়াত পদ্মা রানী দেবী। বাবা প্রয়াত মধুসূদন ত্রিবেদী ও মা প্রয়াত প্রভাবতী ত্রিবেদীর পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। তাঁর মা প্রভাবতী ত্রিবেদীও সতীশের ছাত্রী ছিলেন।
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ কালীবাড়ি মন্দিরের সেবায়েতের দায়িত্ব পালনের জন্য এই মন্দিরের ভিতরে বসবাস ছিল তাঁদের। আর এখানেই  জন্ম  হয়ছিল পদ্মা রানী দেবীর ৩রা মার্চ ১৯৪৫।
ম্যাট্রিকুলেশন ১৯৬৩। উচ্চ মাধ্যমিক ১৯৬৬, সুনামগঞ্জ কলেজ, সুনামগঞ্জ।  ১৯৬৮ -১৯৬৯ শিক্ষাবর্ষে পি টি ট্রেনিং, পি টি আই সুনামগঞ্জ। স্নাতক ১৯৭৩, সুনামগঞ্জ  কলেজ, সুনামগঞ্জ  এবং ১৯৭৫ – ১৯৭৬ শিক্ষাবর্ষে বি এড প্রশিক্ষণ , মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ময়মনসিংহ।
সরকারী সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে পেশায় পদার্পণ ১৮ই ডিসেম্বর ১৯৬৯। মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চাকুরীরত অবস্থায় পরলোকগমন ৩০শে মে ১৯৮৭।
বাবা-মা’র বড় সন্তান হিসেবে বাড়িতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, বিশেষ করে ছোট ভাই-বোনদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে। পড়ালেখার প্রয়োজনীয় খরচ ও উপযুক্ত দিক নির্দেশনা দিয়ে প্রত্যেক ভাইবোনের সফল জীবন গড়ায় নিজের অবদানের জন্য        
তাদের কাছে তিনি প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে বেঁচে আছেন। সতীশের শিক্ষক হিসেবে ছাত্রীদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল চোখে পড়ার মত। তিনি যেমন তাঁর ছাত্রীদের সোহাগ ও ভালবাসার বন্ধনে জড়িয়ে রেখে উপযুক্ত শিক্ষা দিতেন তাঁর ছাত্রীরাও শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় তাঁকে ঘিরে থাকতেন। বিদ্যালয়ের সহ-পাঠক্রমিক কর্মকান্ডে উৎসাহ দিয়ে সেই কাজের স্বার্থকতা অর্জনে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদারকিতে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা ছিল অতুলনীয়। সরস্বতী পূজাসহ বিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত সক্রিয়তা সবার মনকে ছুঁয়ে রেখেছে।
স্বামী সুধেন্দু কুমার ভৌমিকও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। দুই ছেলের বড়জন জনতা ব্যাংকে এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ছোটজন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে এম এস এস পাশ করেছে। বর্তমানে তাঁরা ময়মনসিংহ নিবাসী।
পরোপকারী ও মমতাময়ী শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা প্রয়াত পদ্মা রানী দেবীর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

  • [১]