- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি- আমাদের সহোদরা (১৭)

সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্য্য
আজ আবারো ব্যতিক্রমী সহোদরা নিয়ে হাজির হলাম যারা পরিবারের একমাত্র কন্যা, সতীশের সতীর্থ এবং এই বিদ্যাপীঠৈ এস এস সি পর্যন্ত পাঠ শেষ করেছেন। এবার জানব তাঁদের সম্পর্ক।
(১) অঞ্জলী চক্রবর্তী :– প্রয়াত জ্যোৎস্নাময় চক্রবর্তী ও প্রয়াত প্রণতি চক্রবর্তীর আট সন্তানের মধ্যে তিনি বড়। এস এস সি ১৯৭৪। সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে এইচ এস সি ১৯৭৬ ও স্নাতক ১৯৮৮। সমাজসেবা অধিদপ্তর, ঢাকায়  চাকুরিরত। স্বামী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে ঢাকাবাসী। মেয়ে অর্পিতা চক্রবর্তী কৃষ্টির বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার দিনটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুখের স্মৃতি।
প্রজন্ম প্রত্যাশায় বলেছেন, ‘তারা যেন দেশকে ভালবেসে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে কর্ণধারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।’
(২) আশাপূর্ণা তালুকদার :- প্রয়াত সুরেশ চন্দ্র তালুকদার ও  প্রয়াত শান্তি তালুকদারের সাত সন্তানের একমাত্র কন্যা যিনি জয়া নামে শহরে পরিচিত। এস এস সি ১৯৮৪। সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে এইচ এস সি ও স্নাতক যথাক্রমে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮।
পেশায় ভাইস প্রিন্সপাল,  আদর্শ প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুল, নয়াসড়ক, সিলেট।
পারিবারিক জীবনে শিক্ষক স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে সুখী এই কন্যার বড়জন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকায় পড়ছে  ও ছোটজন বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
এস এস সি পরীক্ষা সবে শেষ হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা মিসেস নূর রওশন চৌধুরীর ডাকে সাড়া দিয়ে রাজদূতের লেখা ‘গরীব হয়ে কী পেলাম’ নাটকে বড় অফিসের ম্যানেজারের চরিত্রে     অভিনয়ের জন্য মদ ও সিগারেট খেতে হবে। মদ এর বিকল্প চললো কিন্তু সিগারেট খাওয়া নিয়ে হলো সমস্যা। প্রথম প্র্যাকটিসের দিন মুখ, নাক, গলা দিয়ে ধোঁয়া বেরুনোর অস্বস্তি ও শেষ পর্যন্ত মঞ্চে অভিনয়ে সমাপ্তি। জীবনের সুখ-স্মৃতিতে এরচেয়ে স্মরণীয় আর কোন দিন আসেনি।
মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে -এটাই জয়ার প্রজন্ম প্রত্যাশা।
(৩) কানিজ সুলতানা :- লন্ডন প্রবাসী প্রয়াত মুবাশ্বির আলী ও গৃহিণী জয়নব খাতুনের দুই সন্তানের একমাত্র কন্যা তিনি। এস এস সি ১৯৮৫। এইচ এস সি ১৯৮৭ ও স্নাতক ১৯৯২। শিক্ষকতা দিয়ে পেশার শুরু ১৯৯৭, কোচিং সেন্টার ‘সৃজন শিক্ষা কেন্দ্র’ থেকে। পরবর্তীতে সৃজন বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য থেকে বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ।
স্বামী ও দুই মেয়ে নিয়ে তাঁর সুখী পরিবার।
ফারিন ও তারিনের জন্ম ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যই কানিজের সুখকর স্মৃতি। ্
মানুষ হিসাবে নিজেকে তৈরিতে সবাই এ+নিয়ে সফলতা অর্জন করেছে এমনভাবে প্রজন্মকে দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
(৪) নওশিন শরমিলি তূর্ণা :- প্রয়াত মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী ও ফৌজি আরা বেগম শাম্মীর দুই সন্তানের একমাত্র কন্যা।  এস এস সি ২০১১। এইচ এস সি ২০১৩, এম সি কলেজ, সিলেট। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয় নিয়ে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।
পেশায় ছাত্রী হলেও শখের বশে অনলাইনে শাড়ি বিক্রেতা হিসাবে একজন ব্যবসায়ীও বটে।
তের বৎসর আগে ছোট্ট ভাইটির জন্মের প্রতিটি মুহুর্ত আজও স্পষ্ট মনে আছে। তাঁর জীবনের স্বল্প পরিসরে এর চেয়ে সুখের স্মৃতি নেই।
প্রজন্মের প্রতি প্রত্যাশায় বলেছেন, ‘বড় হতে গিয়ে শেকড়টাকে যেন ভুলে না যাই। দেশটাকে যেন মায়ের মত ভালবাসি। যেন মানুষ হই।’
(৫) আনতারা হুমায়রা ;- প্রয়াত তারা মিয়া চৌধুরী ও ফেরদৌসি বেগম লিলির  মেয়ে, রোঁদসী নামেই শহরে পরিচিত। পেশায় শিক্ষিকা মায়ের মেয়েটি প্রাথমিক স্তরে সিলেট বিভাগে ১ম স্থান লাভে ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় টেলেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে। এস এস সি ২০১১। এইচ এস সি২০১৩, এম সি কলেজ, সিলেট। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষে পড়ছে।
মেডিকেলে ভর্তির চ্ন্সা পেয়ে মায়ের আশা পূরণ করতে পেরে মায়ের আবেগময় অনুভূতি শেয়ারের স্মৃতিই তাঁর জীবনের সুখস্মৃতি।
সেবার মনোভাব নিয়ে আর্তমানবতার কাজে নিজেদের য়ুক্ত রাখতে হবে- এটাই তাঁর প্রজন্ম প্রত্যাশা।
(৬) মধুরিমা সাহা :- মনোতোষ সাহা ও কল্পনা তালুকদারের একমাত্র উত্তরসূরী কন্যাটি অত্যন্ত মেধাবী। এস এস সি ২০১২। সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে এইচ এস সি ২০১৪ এবং দুটোতেই জিপিএ ৫ (গোল্ডন) ছিনিয়ে আনা মধুরিমা সিলেটের জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ তৃতীয় বর্ষ এম বি বি এস অধ্যয়নরত। তিনি ২০১৩ সালের সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নের খ্যাতি অর্জন করেন।
দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়(২০১১) ব্রিটিশ কাউন্সিলের কানেক্টিং ক্লাসরুম প্রজেক্ট এ অংশগ্রহণের জন্য ইংল্যান্ড যাওয়ার স্মৃতিই জীবনের অন্যতম সুখস্মৃতি।
‘আমরা নিজেরা এগিয়ে যাব, কাউকে ধাক্কা দিয়ে নয়, সবাইকে সাথে নিয়ে। আমরা চেতনাকে শুধু বাঁচিয়ে রাখব না, বরং জাগিয়ে রাখব, আর আমাদের সঙ্গে জাগবে আমাদের দেশ।’ – এই প্রত্যশা ব্যক্ত করেছেন।
(৭) শ্রাবনী দে প্রাপ্তি :– প্রফেসর পরিমল কান্তি দে ও প্রয়াত ঝর্ণা চৌধুরীর একমাত্র সন্তান, এস এস সি পরীক্ষা চলাকালীন যিনি মাকে চিরদিনের মত বিদায় দিয়েও পরীক্ষার হাল ছেড়ে দেননি।
এস এস সি ২০১৩। সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ থেকে এইচ এস সি  ২০১৫। বর্তমানে ইনডিপেন্ডেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (আই. ইউ.বি)  এ কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন।
বাবার চাকরিতে বদলীর কারণে শৈশবে বাবা-মার সাথে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করেছেন। অবস্থানগত পারিপার্শ্বিক বৈচিত্র্য মনে এক মায়াময় মধুর অনূভূতির জন্ম দিয়েছে এবং এটিই প্রাপ্তির জীবনের সুখ-স্মৃতি।
প্রজন্ম প্রত্যাশায় বলেছেন, ‘মাতৃভূমিকে মায়ের মত ভালবেসে দেশটাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে সংঘবদ্ধ চেষ্টাই হোক প্রজন্মের শপথ।’
চলার পথে সফলতা কামনায় ব্যতিক্রমী সহোদরাদের জানাই একরাশ ভালবাসা ও শুভেচ্ছা।

  • [১]