- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সদর হাসপাতালের দরপত্র দাখিলে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ

এ ধরনের ঘটনার খবর সুনামগঞ্জে এর আগে শোনা যায়নি। সম্প্রতি দেশেও এ ধরনের ঘটনা কমে এসেছিল। বিশেষ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনলাইন ভিত্তিক অর্থাৎ ইজিপি সিস্টেমে আসার পর তা কমে এসেছিল। বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় যে কয়টি ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তন্মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ইজিপিতে রূপান্তর কাজটি ছিল অন্যতম। এতে আগের সরকারগুলোর মত টেন্ডার দাখিল করতে কোন ঠিকাদারকে বাধার সম্মুখীন হতে হয় না। ইজিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার দাখিল করতে ঠিকাদারকে স্বশরীরে দপ্তরে আসতে হয় না। অনলাইনে টেন্ডার দাখিল করা যায়। ইজিপি’র আগে আমরা দেখেছি সরকার দলীয় প্রভাবশালী ও মাস্তানচক্র কীভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়াকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখত। পছন্দের ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে তারা টেন্ডার দাখিল করতে দিত না। এ নিয়ে মারামারি, খুন-খারাবির ঘটনাও তখন নৈমিত্তিক ছিল। আওয়ামী লীগ কর্তৃক সরকার পরিচালনায় ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার প্রচলনের ফলে অন্তত টেন্ডার দাখিল প্রক্রিয়াকে বহু গুণে স্বচ্ছ করা গিয়েছিল। এরকম এক সময়েই সুনামগঞ্জে সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ের টেন্ডার দাখিল প্রক্রিয়ায় সরকার দলীয়দের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ লক্ষ করা গেল। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, সদর হাসপাতালে ৩ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য সরবরাহকারী নিয়োগের দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল বুধবার। এ কাজের দরপত্র দাখিল করতে আসা ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে এদিন সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটের সময় বাধা দেওয়া হয় এবং তাদের নিকট থেকে দরপত্রের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। ৯ টা ৪৬ মিনিটে একই কায়দায় আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে বাধা দেয়া হয়। শহরের হাজীপাড়ায় আরেক প্রতিষ্ঠানের দরপত্রের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ঘটনাগুলো পুলিশকে জানালে পুলিশ হাসপাতাল এলাকা থেকে ৫ জন ও হাজীপাড়া থেকে ১ ব্যক্তিকে আটক করে। দরপত্র দাখিলে অবাঞ্ছিত বাধাদানের ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া কর্তৃপক্ষ স্থগিত করেছেন। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। আগের আটককৃতদের ওই আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, এহসানুল হক উজ্জ্বল, তাজুল ইসলাম, রিগ্যান, হাফিজুর রহমান লিটন ও শাওন আহমদ। এদের কয়েকজন সরকার দলীয় অঙ্গ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
পুলিশের তাৎক্ষণিক ভূমিকা গ্রহণের ফলে দুর্বৃত্তদের ইচ্ছা ভ-ুল হয়েছে। আগে এসব ঘটনায় পুলিশ নির্বিকার থাকত। বিশেষ করে যখন সরকার দলীয় কেউ এসব ঘটনায় জড়িত থাকত তখন পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট অফিস মুখ ও চোখ বন্ধ করে রাখতেন। বুধবারের ঘটনায় পুলিশের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয় যে, প্রশাসন এসব কাজকে প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর। দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক পরিচয় কোন কাজে আসে না। সরকার ও প্রশাসনের এই দৃঢ় মনোভাবের বিষয়টি প্রশংসাযোগ্য। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার জায়গাটি দুর্নীতির বড় জায়গা। এখানে বহু ধরনের দুর্নীতি সংঘটনের খবর পাওয়া যায়। সুনামগঞ্জের প্রেক্ষিতে অন্তত টেন্ডার দাখিলে সরকার দলীয় কতিপয় ব্যক্তির হস্তক্ষেপটি বানচাল করা গেছে এইটুকু স্বস্তির খবর।
সদর হাসপাতালের এত টাকার দরপত্রটি কেন ইজিপি পদ্ধতিতে করা গেল না আমরা জানি না। যদি অনলাইনে দরপত্র দাখিলের ব্যবস্থা থাকত তাহলে বুধবারের ঘটনাটি ঘটত না। ইজিপিতে না গিয়ে কেন এমন অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখা হল তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। হাসপাতালগুলোর বিভিন্ন দরপত্র নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। সরকারি স্বাস্থ্য খাত চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাতকে দুর্নীতির ভয়াল বিস্তার থেকে রক্ষা করা গেলে জনগণের করের বহু টাকা সাশ্রয় হত বলে সাধারণভাবে মনে করা হয় এবং সংগতকারণেই তখন স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতাও বর্তমান অবস্থার চাইতে উন্নত হত।

  • [১]