বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার এমএসআর সামগ্রী (ওষুধপত্র) সরবরাহকারী নিয়োগের দরপত্র জমা দিতে বাধা প্রদান ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে পুলিশ সুনামগঞ্জ শহরের সদর হাসপাতাল এলাকা ও হাজীপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা এহসানুল হক উজ্জ্বল, যুবলীগের কর্মী তাজুল ইসলাম, তেঘরিয়ার বাসিন্দা রিগ্যান, শহরতলির মাইজবাড়ির বাসিন্দা হাফিজুর রহমান লিটন ও রাজবাড়ি জেলার পাংশার শাওন আহমদ।
এ ঘটনায় রাত ৮ টায় গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনসহ ২০-২৫ জনকে আসামী করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা (নম্বর ১৬. তারিখ-১৬.০২.২২) হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতালের দায়িত্বশীলরা জানান, ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের এমএসআর (ইডিসিএল বহির্ভূত ওষুধ), যন্ত্রপাতি, গজ, ব্যান্ডেজ ও তুলা, লিলেন, এক্সরে ক্যামিকেল- রিএজেন্ট, আসবাবপত্রসহ সহ সাড়ে তিন কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহকারী নিয়োগের দরপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ ছিল বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)। সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে দরপত্র জমা দেবার জন্য রাজধানী ঢাকা থেকে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন মাইক্রোবাসে করে হাসপাতাল কমপ্লেক্সে আসেন। এসময় কয়েক তরুণ তাদের বহনকারী গাড়িকে ঘিরে দাঁড়ায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এরা গাড়িটিকে নিয়ে হাসপাতাল কমপ্লেক্সের বাইরে চলে যায়। ওখান থেকে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্র ছিনিয়ে নেয় তারা। একইভাবে ৯ টা ৪৬ মিনিটে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তিনতলায় ঢাকা থেকে আসা একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কয়েকজনকে টানা হিছড়া করতে দেখা যায় কয়েক যুবককে। শহরের হাজীপাড়ার গণপূর্ত অফিসের সামনে দরপত্র নিয়ে ঢুকতে কয়েক যুবক ঢাকা থেকে আসা একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের হাত থেকে দরপত্র ছিনিয়ে নেয়।
দরপত্র কার্যক্রমে বাধা দেবার ঘটনা সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে জানান সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. আনিসুর রহমান। পরে পুলিশ গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে জড়িত ৫ জনকে হাসপাতাল এলাকা থেকেই আটক করে। একই সময়ে হাজীপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ আরেকজনকে আটক করে।
সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আনিসুর রহমান জানান, দরপত্র জমা দিতে বাধা প্রদান ও দরপত্র ছিনিয়ে নেবার ঘটনা পুলিশকে জানানোর পর তারা এসে কয়েকজনকে আটক করেছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল বলেছেন, ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কেউ অন্যায় কাজ করে থাকলে এটি তাদের ব্যক্তিগত দায়, সংগঠনের নয়। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এহসান আহমদ উজ্জ্বলকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেবার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরপর হাসপাতালে থাকা সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) মনির আহমদ জানিয়েছেন, হাসপাতাল কমপ্লেক্স থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চালকসহ একটি কারও আটক করা হয়েছে। অন্য এলাকা থেকে আরও গ্রেপ্তার আছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বিকাল সাড়ে ৫ টায় জানান, এ ঘটনায় কেউ মামলা করতে আসেন নি। একজন যোগাযোগ করেছেন, পরে আর আসেন নি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী রাত ৮ টায় জানান, ভোলার চর ফ্যাশনের পাবেল মিয়া বাদী হয়ে এ ঘটনায় শহরের তেঘরিয়ার এহসানুল হক উজ্জ্বলসহ ২০-২৫ জনকে আসামী করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন। আটক ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, হাসপাতালের সাড়ে তিন কোটি টাকার দরপত্র প্রক্রিয়ায় বাধা দেবার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাজীপাড়া এলাকায় গ্রেপ্তারকৃতদের একজন দরপত্রে বাধা দেবার কাজে যুক্ত ছিল জানিয়েছে।