- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সদস্য পদে ৪৬ জন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে ১৫টি ওয়ার্ডে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন ৮৩ প্রার্থী। জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। প্রার্থীদের নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে নানা রকম আলোচনা।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিজয়ী হতে একেক প্রার্থী একেক ধরণের কৌশল অবলম্বন করছেন। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা প্রতিদিনিই ধরনা দিচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য-সদস্যা এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানদের বাসা-বাড়িতে। পৌরসভা এলাকায় প্রার্থীরা মেয়র- কাউন্সিলরদের কাছে ছুটছেন ভোটের জন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৫টি ওয়ার্ডের ৮৩ জন প্রার্থীর মধ্যে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৪৬ জন প্রার্থী। তবে নির্বাচনে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অনেকেই। এছাড়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি সকল সদস্য প্রার্থীই নিজেদের অবস্থান যথেষ্ট ভাল ও তারা বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সাধারণ সদস্য পদে-১নং ওয়ার্ড (তাহিরপুর
উপজেলার শ্রীপুর উত্তর, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ, বাদাঘাট, তাহিরপুর সদর ও বালিজুরী ইউনিয়ন) লড়ছেন আতিকুর রহমান-বৈদ্যুতিক পাখা, আবুল হোসেন খান-তালা, জিল্লুর রহমান- ঢোল, জুনাব আলী- টিউবওয়েল ও অ্যাড. মুস্তাফিজ আলী পীর- হাতি প্রতীক নিয়ে। তবে এই ওয়ার্ডে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি হতে পারে আবুল হোসেন খান ও জুনাব আলীর মধ্যে।
২নং ওয়ার্ডে (শ্রীপুর দক্ষিণ, মধ্যনগর সদর, চামরদানী, বংশীকুন্ডা উত্তর, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ, চামরদানী ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চামরদানী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক প্রভাকর তালুকদার- হাতি, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন রুকন-তালা, বিএনপি নেতা আব্দুল কায়ূম মজনু- ঘড়ি, আব্দুস সালাম-পাখা, হারুন অর রশিদ-টিউওয়েল প্রতীক নিয়ে। এই ওয়ার্ডের সকল প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
৩নং ওয়ার্ডে (ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা সদর, জয়শ্রী, সেলবরষ, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জুবায়ের পাশা হিমু-বৈদ্যুতিক পাখা, যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ মুরাদ- তালা, সৈয়দ আমিনুল হক হেলাল- হাতি প্রতীক নিয়ে। এই ওয়ার্ডে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় সম্ভবনা রয়েছে হিমু ও মুরাদের মধ্যে।
৪নং ওয়ার্ড (জামালগঞ্জ উপজেলার সদর, ফেনারবাঁক, বেহেলী, ভীমখালী ও সাচনাবাজার ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা যুবলীগ নেতা কল্যান ব্রত তালুকদার-তালা, উপজেলা আওয়ামী লীেেগর সহ সভাপতি আব্দুল মুকিত চৌধুরী-হাতি, আসহাদুর রহমান-ঢোল, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোল আহমদ- অটোরিক্রা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিসবাহ উদ্দিন-ঘুড়ি, সৈয়দ খালেদ আহমদ-টিউওয়েল প্রতীক নিয়ে। এই ওয়ার্ডে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার সম্ভবনা রয়েছে কল্যাণব্রত তালুকদার, গোল আহমদ, আব্দুল মকিত চৌধুরী ও মিসবাহ উদ্দিনের।
৫নং ওয়ার্ডে-(সদর উপজেলার গৌরারং, মোহনপুর, কাঠইর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ, পলাশ, ধনপুর, বাদাঘাট দক্ষিণ ও ফতেপুর ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ এইচ এম হাসান বশির- বৈদ্যুতিক পাখা, ফারুক রশীদ-ঘুড়ি, মাহতাব উদ্দিন তালুকদার-অটোরিক্্রা, আবু সাইদ-বক, আলম নূর-উটপাখি, মমিনুল ইসলাম-ঢোল, মহিবুর রহমান-তালা, শামছুজ্জামান শাহ-বেহেলা, সাজ্জাদুর রহমান-হাতী, হোসেন আলী-টিফিন কেরিয়ার, সৈয়দ আহমদ-টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে। এই ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বেশী। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে শামছুজ্জামান শাহ,সাজ্জাদুর রহমান, মহিবুর রহমান, ফারুক রশীদ ও মাহতাব উদ্দিন তালুকদার মধ্যে ।
৬ নং ওয়ার্ডে (সুনামগঞ্জ পৌরসভা, সদর উপজেলার কুরবাননগর, জাহাঙ্গীরনগর, সুরমা, রঙ্গারচর, মোল্লাপাড়া ও লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লড়ছেন আব্দুল মজিদ-তালা, আল হেলাল-বক, জিয়াউর রহমান- অটোরিক্্রা, জুবের আহমদ অপু- টিউবওয়েল, মাজহারুল ইসলাম উকিল- হাতী, ইয়াকুব বখত বহলুল -বেহালা, ওয়াহিদুর রহমান সুফিয়ান-ঘড়ি, জসিম উদ্দিন- ক্রিকেট ব্যাট, মনির উদ্দিন-ঢোল, সৈয়দ তারিক হাসান দাউদ- বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীক নিয়ে। এই ওয়ার্ডে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় সম্ভবনা রয়েছে আব্দুল মজিদ, ওয়াহিদুর রহমান সুফিয়ান, ইয়াকুব বখত বহলুল, জুবের আহমদ অপু, মাজাহারুল ইসলাম উকিল, সৈয়দ তারিক হাসান দাউদ ও মনির উদ্দিনের মধ্যে। তবে নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকমও হতে পারে।
৭ নং ওয়ার্ডে (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা, পশ্চিম পাগলা, জয়কলস, শিমুলবাঁক ও পাথারিয়া ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ মিয়া-বৈদ্যুতিক পাখা, জহিরুল ইসলাম-ঘড়ি, জাহাঙ্গীর আলম- তালা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল আলম নিক্কু- টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে। এই ওয়ার্ডে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ায় সম্ভবনা রয়েছে জহিরুল ইসলাম, আব্দুল্লা মিয়া ও রেজাউল আলম নিক্কুর মধ্যে।
৮নং ওয়ার্ডে (দিরাই উপজেলার পৌরসভা, সরমঙ্গল, চরনারচর, রাজানগর, রফিনগর, জগদল ও করিমপুর ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাজমুল হক-তালা, সৈয়দ বদরুল আলম-হাতী, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. সুহেল আহমদ ছইল মিয়া- টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে। এই ওয়ার্ডে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে অ্যাড. সুহেল আহমদ ছইল মিয়া ও নাজমুল হক’র মধ্যে।
৯ নং ওয়ার্ডে (দিরাই উপজেলার তাড়ল, কুলঞ্জ, ভাটিপাড়া, শাল্লা উপজেলার শাল্লা, বাহাড়া, হবিবপুর ও আটগাঁও ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবু আব্দুল্লাহ চৌধুরী- বৈদ্যুতিক পাখা, পিযুস শেখর দাস (পিসি দাস)-অটোরিক্্রা, বাদল চন্দ্র দাস- টিউবওয়েল, বেলাল আহমেদ-ঢোল, আবুল লেইছ চৌধুরী-ঘড়ি, নূরুল হক তালুকদার-তালা, নান্টুু লাল দাস-হাতি প্রতীক নিয়ে। এই ওয়ার্ডের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে আবুল লেইছ চৌধুরী, পিসি দাস ও নান্টুু লাল দাসের মধ্যে।
১০ নং ওয়ার্ড (জগন্নাথপুর উপজেলার পৌরসভা, কলকলিয়া, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা, পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুল মতলিব চৌধুরী -ঢোল, মাহতাব উুল হাসান- বেহেলা, আব্দুল জব্বার- ঘড়ি, ইমদাদুর রহমান তালুকদার-ক্রিকেট ব্যাট, ছালেক উদ্দিন-বক, নূরুল আমীন- বৈদ্যুতিক পাখা, সুহেল মিয়া-তালা, শহিদুর রহমান শহীদ- টিউবওয়েল। দুইটি উপজেলা নিয়ে এই ওয়ার্ড গঠিত হওয়ায় মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে নূরুল আমীন, সুহেল মিয়া, মাহতাব উল হাসান ও আব্দুল জব্বার মধ্যে।
১১ নং ওয়ার্ড (জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও, রাণীগঞ্জ, আশারকান্দি, পাটলী, মীরপুর, সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ও চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবুল হোসেন লালন-টিউবওয়েল, শাহজাহান সিরাজী-ঘুড়ি, সৈয়দ সাবির মিয়া-তালা প্রতীক নিয়ে। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে আবুল হোসেন লালন ও শাহজাহান সিরাজীর মধ্যে।
১২ নং ওয়ার্ডে (ছাতক উপজেলার চরমহল্লা, জাউয়াবাজার, দোয়ারবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও, পান্ডারগাঁও ও দোহালীয়া ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবুল আজাদ-টিউবওয়েল ও রেজা মিয়া তালুকদার-তালা প্রতীকে। এই ওয়ার্ডে প্রার্থীই দুই জন।
১৩ নং ওয়ার্ডে- (দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর, বাংলাবাজার, নরসিংপুর, লক্ষীপুর, বোগলাবাজার ও সুরমা ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আমিনুল ইসলাম সেলিম-তালা, নূরুল ইসলাম-টিউবওয়েল ও আকরামুল হাসান মাসুম-অটোরিক্্রা প্রতীক নিয়ে। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারেন আমিনুল ইসলাম সেলিম ও নূরুল ইসলাম।
১৪ নং ওয়ার্ডে (ছাতক উপজেলার পৌরসভা, সদর, ইসলামপুর, নোয়ারাই, কালারুকা, খুরমা উত্তর, ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আফসার উদ্দিন-বৈদ্যুতিক পাখা, আফজল হোসেন-তালা, আশীক আলী-টিউবওয়েল, এনামুল হক- উটপাখি প্রতীক নিয়ে। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে আশীক আলী ও আফজল হোসেনের মধ্যে।
১৫ নং ওয়ার্ড- (ছাতক উপজেলার খুরমা দক্ষিণ, সিংচাপইড়, দোলারবাজার, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, ছৈলা-আফজলাবাদ ও ভাতগাঁও ইউনিয়ন) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুস শহীদ মুহিত-তালা ও সানাউর রহমান তালুকদার- টিউবওয়েল প্রতীক পেয়েছেন। এই ওয়ার্ডে দুইজন প্রার্থী থাকায় তাদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বি হবে।

  • [১]