- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সপ্রাণ নিশ্চল প্রকৃতিবন্ধুর প্রতি কেন এই নিষ্ঠুরতা?

‘নির্জন হাওরে নিষ্ঠুর বৃক্ষ নিধন’ গতকালকের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের প্রধান সংবাদ শিরোনাম। বৃক্ষকে যখন থেকে মানুষ পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য বন্ধু ভাবা শুরু করে তখন থেকেই মূলত বৃক্ষবিরোধী যেকোন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিবেকবান মানুষেরা প্রতিবাদী হয়েছেন। কিন্তু এতে করে সপ্রাণ কিন্তু নিশ্চল এই প্রকৃতিবন্ধুর প্রতি কিছু লোভী মানুষের নিষ্ঠুরতা বন্ধ হয় নি। হালির হাওর জেলার অন্যতম বড় একটি হাওর। জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা জুড়ে এর বিস্তৃতি। হাওরটি এতোই বিশাল যে এর মাঝামাঝি অংশ থেকে গ্রামগুলোর দূরত্ব অনেক । নির্জন পরিবেশে এখানে বাসা বাঁধে অতিথি পাখি, দেশিয় নানা জাতের পাখি। এইসব পাখি আবাস গড়ে তুলে হাওরে বেড়ে উঠা হিজল করচ গাছের ডালে ডালে। হিজল করচ গাছ জলে বেঁচে থাকতে পারে, তাই হাওরে এই জাতীয় গাছের সংখ্যা বেশি। হালির হাওরের এরকম কয়েক শ’ হিজল করচ গাছ কেটে নেওয়ার দুঃসংবাদ ছিল প্রথম লাইনের শিরোনামভূক্ত সংবাদে। কর্তনকারীদের নাম পাওয়া যায় নি, হয়তো বা ভয়ে কেউ নাম বলেন নি উটকো ঝামেলা এড়াতে। হাওর যত নির্জনই হোক যত দুর্গমই হোক, সেখানে একটি বাঁধের উপর প্রাচীরের মত দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক শ’ গাছ কেউ কেটে নিবে আর সেই সংবাদ কেউ জানবে না, এটি হতে পারে না। স্থানীয় বনবিভাগের কর্মকর্তাদেরও জানা নেই কে এই নিষ্ঠুর বৃক্ষ হন্তারক। তাদের সচেতন প্রয়াস নিজেদের গা বাচানোর। ‘বন বিভাগের রোপিত বৃক্ষ নয় এগুলো’ বলে দায় সারতে চাইছেন তারা। পাউবোও জানে না কারা এই গাছগুলো কেটেছে।  স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাছ কাটার সংবাদে মর্মাহত হয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়া পড়ে বুঝা যায়। বস্তুত তারও জানা নেই কারা গাছ কেটেছে। কয়েক শ’ গাছ কাটতে, হোক তা যান্ত্রিক করাতের সাহায্যে, বেশ সময় লাগার কথা। কর্তিত গাছগুলো নিরাপদে পাচার পরিবহন করতেও সময় লাগার কথা। এর মাঝে কেউ দেখলেন না, কেউ কিছু শুনলেন না? এমন হতে পারে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ যে দুর্বৃত্তরা গাছ কেটেছে তারা নিশ্চয়ই এমন জাদু জানে না যা দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব লুকিয়ে রাখতে পারে। আসল কথা হলো দুর্বৃত্তদের নাম প্রকাশ করতে স্থানীয় মানুষ তো বটেই, দায়িত্বশীলরাও ভয় পাচ্ছেন। এই অবস্থা কাম্য নয়।
সংবাদে বলা হয়েছে গাছগুলো কাটার ফলে বাঁধের ক্ষতি হবে কারণ এই গাছ বাঁধের মাটি ধরে রাখায় ভূমিকা রাখত। অতিথি পাখির আগমন কমে যাবে কারণ তাদের বাস্তুসংস্থানের সুযোগ কমে গেছে গাছ কাটার ফলে। পুরো হাওরাঞ্চল এরকমভাবেই দুর্বৃত্তদের খপ্পরে পড়ে  বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়ছে। বিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরের খবর আমরা সবাই জানি। খোদ সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় এই হাওরে পরিকল্পিতভাবে লাগানো হিজল ও করচবাগ নির্মূল করা হয়েছে। আসলে কখনও পরিবেশবিরোধী কর্মকা-ের জন্য কাউকে সাজা দিতে ব্যর্থতার কারণেই এই ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত আছে।
আমরা দাবি জানাই হালির হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের উপর বেড়ে উঠা গাছগুলো কারা কেটেছে তা খুঁজে বের করা হোক। তাদের কঠোর শাস্তি দেয়া হোক।

  • [১]