স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে করোনার প্রভাবে সবজির ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকেরা। গত সপ্তাহে লকডাউন তুলে নেওয়ার পরও সময়মত জেলা ও জেলার বাইরে যানবাহন করে সবজি রপ্তানী করতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মন্তব্য একাধিক কৃষকের।
বর্ষা মওসুমে শশা, জিংগা, চালকুমড়া, ঢুগি, ডেনডি, ঢেড়স, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি ইত্যাদির ভাল উৎপাদন হয়েছে বিশ্বম্ভরপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের বাঘবের, মথুরকান্দি, জিনারপুর, দক্ষিণ বাদাঘাট, পলাশ, ধনপুর ও চিনাকান্দি এলাকায় বর্ষা মওসুমে ব্যাপক সবজির ফলন হয়েছে।
সবজি চাষের ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর, রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে। সুরমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর, নলুয়া, কোনোগাঁও, ঝরঝরিয়া, মঙ্গলকাটা, বালাকান্দা, পশ্চিম সাহেবনগর এলাকায় ব্যাপক সবজি চাষ হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের সবজি কৃষক শিমুল মিয়া শশা, মরিচ, জিংগা, চাল কুমড়া, বরবটি ইত্যাদির চাষ করেছেন প্রায় ১০ কেয়ার জমিতে। সবজির ভাল ফলন হয়েছে। আনন্দপাড়া কৃষক জালাল মিয়া চাষ করেছেন ১৫ কেয়ার জমিতে। করোনার প্রভাবে সবজি বেচাকেনায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না বলে জানান তারা।
সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের জামাল হোসেন শশা, ডেনডি, চাল কুমড়া, করলা, জিংগা ইত্যাদির চাষ করেছেন পাঁচ কেয়ার জমিতে। নলুয়ার গ্রামের আবু সালাম করেছেন ৪ কেয়ার জমিতে। কোনাগাঁওয়ের লিয়াকত আলী করেছেন ৩ কেয়ার জমিতে। কিন্তু সবজির ভাল ফলন হলেও ভাল দাম পাননি বলে দাবি তাদের।
কৃষক আব্দুল মোতালিব বলেন, করোনা প্রভাবে সবজি বেচা কেনায় প্রভাব পড়েছে। গত বছর সবজি কিনতে পাইকারী ক্রেতারা গাড়ি নিয়ে জমি পর্যন্ত চলে আসতো। এবার আসছে না। তাই বেশি দামে সবজি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, করোনার প্রভাবে সবজি চাষীরা গত বছরের তুলনায় তেমন ভাল মূল্য পাচ্ছে না। সময়মত যানবাহন পেলে এবং যাতায়াত করতে পারলে অবশ্য বেশি দামে সবজি বিক্রি করা যেতো।
মঙ্গলকাটা এলাকার সবজি বিক্রেতা শাহজাহান মিয়া বলেন, আমরা সবজি নিয়ে বাজারে গেলে ক্রেতা পাই না। মানুষ করোনার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে বাসা-বাড়ি থেকে বের হয় না। তাই আমরাও দর দাম করে বিক্রি করতে পারি না।
অপর বিক্রেতা আব্দুুল কাদির বলেন, আমি যখন বাসা বাড়িতে সবজি নিয়ে যাই। তখন মানুষে নানা মন্তব্য করেন। কেউ বলেন সবজির মাধ্যমে নাকি করোনা ছড়ায়। কেউ বলেন টাকা দেয়া নেওয়ার মাধ্যমেও করোনা ছড়ায়। তাই সঠিক দামে সবজি বিক্রি করতে পারি না।