- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

সবজি নিয়ে বিপাকে চাষী

লিপসন আহমেদ
‘সবজি লইয়া বিপদও পড়ছি, না পালাইতাম পাররাম, না বেছতাম পাররাম। অতো টেকা খরচ কইরা ক্ষেত করছি অষন পানির দামে সবজি বেছা লাগের।’ চোখে মুখে কষ্ট আর বেদনা নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন সদর উপজেলার কৃষ্ণ নগরের কৃষক রেনু মিয়া।
তিনি বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে সবজির চাষ করেছিলাম, শীতের শুরুতে চড়া দামে কিছু সবজি বিক্রিও করতে পেরেছি। ভেবেছিলাম সবজি বিক্রি করে যে টাকা লাভ হবে সেই টাকা দিয়ে একমাত্র মেয়ে মাইসা (২০) কে ধুমধাম করে বিয়ে দেবো। কিন্তু স্বপ্নের মাঝে চূড়াবালি।
সবজির উৎপাদন ভালো হওয়ায় এখন পানির দামেও সবজি বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা। নৌকা বোঝাই করে যে সবজি তারা ভোর বেলা বিক্রির জন্য সুনামগঞ্জের বাজারে নিয়ে আসেন কৃষকরা, সেই সবজি বিক্রি করতে না পেরে আবার সাথে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
কষ্ট কেবল রেনু মিয়ার নয়, একই রকমের কষ্ট হামিদ মিয়া, কেসমত আলী, জসিম উদ্দিন সহ অনেক সবজি চাষীর। বৃহস্পতিবার সকালে সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ছোট বড় নৌকা বোঝাই টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, শীম, ডেঙ্গ, মিষ্টি লাউ সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়ে বসে আছেন কৃষকরা। কিন্তু বাজারে সবজির দাম কম হওয়ায় বড় বড় আরৎদাররা লোকসানের ভয়ে সবজি কিনছেন না।
ব্যবসায়ীরা জানান, সবজি কিনে লাভ নাই, বাজারে সবজির দাম নাই। কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কম টাকায় কিনলেও শ্রমিকের খরচ সহ অন্যান্য খরচের কারণে সবজির দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু ক্রেতারা ভোরে বাজারে এসে চাষীদের কাছ থেকে কম দামে সবজি কিনে নিচ্ছেন। এই কারণে আমরা এখন কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনতে চাচ্ছি না।
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি ৫-৭ টাকা (পিস), বাঁধাকপি ৪-৫ টাকা (পিস), লাউ ৫ টাকা (পিস) গাজর ১০ টাকা (কেজি) , শিম ১০ টাকা (কেজি), টমেটো ২-৩ (কেজি), মুলা ৪ টাকা (হালি), চিচিঙ্গা ১০ টাকা (কেজি), বেগুন ১৫ টাকা (কেজি) বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা আজিজুর রহমান জানান, সবজির দাম খুব বেশি কমে যাওয়ায় কৃষককরা ক্ষেতে পড়ে কান্দে (কাঁদে) আর আমরা বিক্রিতারা দোকানে বসে কান্দি (কাঁদে) সবজির দাম কমে যাওয়ায় সত্যি আমরা খুব কষ্টের মাঝে আছি।
সবজি ক্রেতা লিটন আহমেদ জানান, ‘শীতরে শুরুর দিকে সকল সবজরি দাম খুব বেশি ছিল। এখন তা নেই। আগে ৫০০ টাকার সবজি কিনলেও ব্যাগ ভরতো না, আর এখন ১০০ টাকার সবজি কিনলে ব্যাগ ভরে যায়।
ক্রেতা আলম আহমদ জানান, কিছুদিন আগে একটি লাউ কিনেছি ৪০-৪৫ টাকায়। এখন দুটি লাউ কিনলাম ১৬ টাকায়। বাজারে ‘সব সবজির দাম খুব কম।
সবজি বিক্রেতা হামিদ মিয়া জানান, এই বছর সবজির দাম যে সস্তা আর কোন বছর এই রকম সস্তা হয়নি। সবজি করতে যে টাকা খরচ হয়েছে সেই টাকাও এখন পর্যন্ত তুলতে পারি নি।
সবজি বাজারের সভাপতি মো. নুরুল মিয়া জানান, সবজি নিয়ে কৃষকরা খুব বিপাকে আছে। সবজি ক্ষেত করতে তাদের যে টাকা খরচ হয়েছে তারা সেই টাকাও খেন পর্যন্ত তুলতে পারছে না। শুধু কৃষক নয়, আমরা যারা আরৎদার ব্যবসায়ীরাও বিপাকে আছি আমাদেরকেও প্রতিদিন বড় অংকের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এত সস্তা সবজি বাজার আগে কখনও হয়নি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ফরিদুল হাসান বললেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির ফলন ভাল হয়েছে। এজন্য সারাদেশের সবজির দাম কম। বাজারে যারা সবজি এনে বিক্রি করে তারা কিছু দাম পাচ্ছে। যারা ক্ষেতে বিক্রি করছে, তাদের অবস্থা বেশি খারাপ।

  • [১]