বিশেষ প্রতিনিধি
যুবলীগ নেতা সবুজ কান্তি দাসকে আতংক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে দেওয়া মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠিয়ে হুমকি দেবার ঘটনায় জড়িত ২ তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। এরা হচ্ছে এরশাদ মিয়া (২৫), বাড়ি-জামালগঞ্জের বেহেলী ইউনিয়নের আহসানপুর গ্রামে এবং সাজিদুর রহমান (১৯), বাড়ি-শিমুলবাঁক ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামে। পুলিশ বুধবার ও বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে এই দুই তরুণকে আটক করেছে। এদের জঙ্গী সম্পৃক্ততা আছে কী-না খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গত শনিবার রাত ১০ টায় সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সবুজ কান্তি দাসের মোবাইলে ম্যাসেজ আসে ‘কষ্ট করে দিনে রাতে/কত টাকা করছো কামাই/ এত টাকা কেমনে নিবা/ কাফনের তো পকেট নাই’ মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তো? লিখে নিচে কাফন পরিহিত একটি লাশেরও ছবি দেওয়া হয়।
এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েন সবুজ কান্তি দাস। রাতেই থানায় জিডি করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে হৈ-চৈ শুরু হয়। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও পরদিন রোববার এ নিয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশ এই বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে দেখে এবং মোবাইল ট্র্যাকিং করে জামালগঞ্জের আহসানপুর থেকে এই সীমের মালিক এরশাদ মিয়াকে বুধবার আটক করে। পরে আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সুনামগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র নুরুল ইসলাম বজলু ও সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খায়রুল হুদা চপলের সহায়তায় কৌশলে সাজিদুর রহমান সাজিদকে আটক করে।
সাজিদ ৩ বছর আগে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শিমুলবাঁকের ঢালা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। ২০১৫ সালে ওমান চলে যায় সে। মাস খানেক আগে ওমান থেকে এসেছে সে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ সদর থানা হাজতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সাজিদের। সাজিদ সবুজ দাসকে ম্যাসেজ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। জামালগঞ্জের এরশাদ মিয়ার সিম সে কীভাবে পেল? এমন প্রশ্নের জবাবে সাজিদ জানায় তাঁর বোনের কাছ থেকে নিয়েছে সে। সবুজ দাসের নাম্বারটি সুনামগঞ্জের একটি ডায়গনষ্টিক সেন্টারে ডাক্তার দেখানোর সময় পেয়েছে সে। এই নাম্বারটি তার মোবাইলে কোন নাম দিয়ে সেভ ছিল না এবং এই ম্যাসেজটি সে সবুজ দাসকে উদ্দেশ্য করে দেয়নি। ম্যাসেজটি তাঁর এক বন্ধু তাকে দিয়েছিল, সে অন্য আরেকজন ফরোয়ার্ড করতে গিয়ে ভুলে সবুজ দাসের মোবাইলে চলে যায়।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘অন্যের সিম ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে ম্যাসেজ দেয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সাজিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে। এছাড়া রাতেই সাজিদুর ও এরশাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তাঁর কাছ থেকে এই বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হবে, তাদের অন্য কোন মোটিভ ছিল কী-না সেটিও জানার চেষ্টা করা হবে’।