এমএ রাজ্জাক, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সমসার হাওর রক্ষা বাঁধে সরকারি কোন বরাদ্দ না থাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে এই বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন হাজারো কৃষক। শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, জামালপুর, নবাবপুর, ভোরাঘাট, দুধের আউটা, সমসার পাড়সহ সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো কৃষক সমসার বাঁধ ও বৈঠাখালী বাধঁ রক্ষা করার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন। শুক্রবার সকাল থেকে পাটলাই নদীতে পানি বাড়তে থাকায় সমসার হাওর রক্ষা বাঁধটি এখন হুমকির মুখে রয়েছে। মসজিদের মাইক
দিয়ে বার বার কোদাল, টুকরি নিয়ে লোকজনকে বাঁধে যাওয়ার জন্য আহবান করা হচ্ছে।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এক ফসলী সমসার হাওরে এ বছর ১৩’শ একর বোরো ধানের চাষ হয়েছে। বেসরকারি হিসাব মতে এ হাওরে বোরজমির পরিমাণ আরও বেশী।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, পানিতে মাটিয়ান হাওর তলিয়ে যাওয়ার পর হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বোরো ফসল গোলায় তোলার একমাত্র ভরসা এখন শনি হাওর ও সমসার হাওর।
ইতিমধ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি তলিয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক হাওর। উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের কৃষক মতি মিয়া বলেন, সমসার হাওরটি রক্ষা হলে ধানের পাশাপাশি সীমান্তবর্তীসহ আশপাশের গ্রামগুলোর গরুর খাবারও সংগ্রহ করা যাবে।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ ওয়ার্ড সদস্য শুধাংশু দাস বলেন, সরকারি কোন বরাদ্দ না থাকায় গত একমাস ধরে এলাকার কৃষকদের নিয়ে সমসার বাধ ও বৈঠাখালী বাধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
আমরা হাওরবাসী সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী রুহুল আমিন বলেন, দায়িত্বশীলদের গাফিলতি আর লুটপাট চিন্তার কারণে এ বছর এতোগুলো হাওর বাঁধ ভেঙ্গে ডুবেছে। আর এখন সারা বছর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এক ফসলী বোরো ধান হারিয়ে আহাজারি করছেন কৃষকরা। আমরা চাই সমসা হাওরসহ প্রতিটি হাওরে সরকার বরাদ্দ দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হোক।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খসরুল আলম বলেন, সমসার হাওরে কোন বরাদ্দ না থাকায় আমরা ইউনিয়ন পরিষদ ও তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক সমিতির পক্ষ থেকে এবং এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে হাওরের বাঁধটি এখনও টিকিয়ে রেখেছি। তবে যে হারে পানি বাড়ছে সরকারী কোন বরাদ্দ না পেলে যে কোন সময় হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন খান বলেন, সরকারী বরাদ্দ না থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে সমসার ও বৈঠাখালী বাধে শত শত কৃষক বাঁধ রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।