ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
নানান সমস্যায় জর্জরিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণাঞ্চলের আলোর বাতিঘর ইশাখপুর-শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়। অসংখ্য শিক্ষার্থীকে উন্নত জীবনে পৌঁছে দেওয়ার মহান ব্রত নিয়ে নীরবে কাজ করে যাওয়া এই বিদ্যাপীঠের উন্নয়নে নেই কারও কোনও উদ্যোগ। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের মহারথে কোনো অজ্ঞাত কারণে শামিল হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। অথচ সামান্য সরকারী সুযোগ সুবিধা পেলে উপজেলার অন্য আট-দশটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো এটিও আরো বেশি আলো ছড়াতে পারতো। পারতো নিজস্ব আলোয় আলোকিত হয়ে গ্রামীণ জনপদে শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে।
২০১৪ সালে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা ইউনিয়নের ভমবমি বাজারের পাশ ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। তিন বছরের যাত্রাপথ পারি দিতে অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবিলা করে চলতি বছরই স্বনামে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে জেএসসি পরীক্ষায়। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যথাক্রমে জেএসসিতে শতভাগ ও ৮৭ভাগ পাসের হার থাকলেও অদ্যাবধি প্রতিষ্ঠানটি পায় নি দশম শ্রেণির পাঠদান
অনুমোদন। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান মো. হাবিবুর রহমান জানালেন – শিগগির দশম শ্রেণির পাঠদান অনুমোদন পেয়ে যাবেন তারা। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করাও হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে। মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আছে এ স্কুলের উপর।
এসব সমস্যা ছাড়াও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমস্যার লাগাম টেনে ধরতে পারছেন না বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিসহ এলাকাবাসী। এলাকা থেকে মাসিক, বাৎসরিক তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে ঢিমেতালে চলছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সম্মানি ও অন্যান্য খরচ। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ ডেস্ক, অফিসের আসবাবপত্রের অভাবে ফাঁকা লাগে স¤পূর্ণ স্কুল। নেই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পাকা ভবন। ২০১৪ সালে প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের দেওয়া অনুদান আর তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদের দেওয়া অনুদানে শিক্ষা প্রসারে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানই প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান সুফি মিয়াও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তখন। পরিষদ তহবিল থেকে অনুদান প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা ছিলো তার। তখন থেকে অদ্যাবধি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। তিনি জানান- একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী পরিবেশ অত্যন্ত দরকারী। শিক্ষার পরিবেশে যাতে কোনো ব্যঘাত না ঘটে সেই অনুযায়ী কাজ করছি। এই প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে মাঠ, পাকা ভবন দরকার। প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের মাধ্যমে আবেদন করেছি, আশা করি চলতি বছরই উন্নয়নের মুখ দেখবো আমরা।
পরে ২০১৫ এর শেষের দিকে উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি আবুল কালাম একটি আধা পাকা ঘর তৈরী করে দিলে টিনশেডের কক্ষসহ মোট ৫টি কক্ষ দিয়ে কোনো রকমে চলছে পাঠ দানের কাজ। ১ একর ১০ শতক জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত টিনশেডের ভবনে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩৮০জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। ৮ জন শিক্ষক স্টাফ নিয়ে মাত্র ৫টি শ্রেণিকক্ষে এতো শিক্ষার্থীদের কোনো ভাবেই সুষ্ঠু পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। আরো ভবন থাকার দরকার বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এস এম ছমরু মিয়া।
৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার ৩ বছরেও বিদ্যুতের আলো জ্বলেনি এখনো। গ্রীষ্মে শিক্ষার্থীদের প্রচ- গরমের মাঝে পাঠগ্রহণ করতে হয়। তবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি আবুল কালাম জানান- বিদ্যালয়টির উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। ৩ তলা পাকা ভবনের জন্য প্ররুত্ব দিয়েই কাজ করছি। আশা করছি চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বিদ্যুত পৌঁছে দিতে পারবো।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীর একটাই দাবী- এই এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি খুবই দরকারী। যেহেতু আশপাশের পূর্বে ৬, পশ্চিমে ৭, উত্তরে ৮ ও দক্ষিণে ৪ কি. মি. এর ভিতরে কোনো মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, সেহেতু এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে এর খুব দরকার। তাই সকল রাজনীতির উর্ধ্বে রেখে এর উন্নয়নে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে।
দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন বলেন- মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে এ ব্যপারে কথা হয়েছে। তিনি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি খুবই আন্তরিক। তিনি আমাদের বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খুব শিগগিরই অনুদান পেয়ে যাবো।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন- আমার সময় অনেক ভাবে চেষ্টা করছি প্রতিষ্ঠানটিকে একটা পর্যায়ে নিয়ে আসতে। এরকম এলাকায় একটি স্কুল দরকার। বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেওয়ার ঐকান্তিক চেষ্টা করবেন বলে আশা করছি।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী আবুল হাসনাত মুঠোফোনে জানান- মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এ প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করছেন। ১০ম শ্রেণির পাঠদানের অনুমতি পেলেই একটি পাকা ভবন দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।